সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আচ্ছা, ছুটি কাটাতে আমরা পাহাড়-সমুদ্র সব জায়গায় যাই। তবে যদি গন্তব্য হতে পারে সরাসরি চাঁদ, তাহলে কেমন লাগবে? শুনতে অবাক লাগলেও একেবারে সত্যি। কারণ, চাঁদে প্রথম হোটেল (Hotel in Moon) তৈরির পরিকল্পনা এবার বাস্তবের পথে এগোচ্ছে। বিলাসবহুল ও ভিন্নধর্মী এই মহাকাশ পর্যটনের উদ্যোগ নিয়েছে Galactic Resource Utilization Space (GRU) নামের সংস্থা। এমনকি তারা দাবি করছে, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০৩২ সাল থেকে প্রথম অতিথিদের স্বাগত জানানো হবে চাঁদের হোটেলে।
কেমন হবে চাঁদের হোটেল?
সংস্থা জানিয়েছে, এটি হবে চাঁদের বুকে প্রথম স্থায়ী মানবনির্মিত কাঠামো। আর পুরোপুরি ইনফ্ল্যাটেবল হোটেল হবে এটি। এমনকি একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারজন অতিথি থাকতে পারবে। আর বছরে প্রায় ১২টি গ্রুপে অতিথি গ্রহণ করা হবে। সবথেকে বড় ব্যাপার, এই হোটেল তৈরি করা হচ্ছে কম গ্রাভিটিতে থাকার অভিজ্ঞতা যারা নিতে চায়, তাদের জন্যই।
আরও পড়ুনঃ মহার্ঘ ভাতা বেড়ে হতে পারে ৭৪%! সরকারি কর্মীদের জন্য ৮ পে কমিশন নিয়ে বড় আপডেট
কী কী সুযোগ-সুবিধা থাকবে?
হোটেল চাঁদে হলেও বিলাসবহুলে কোনওরকম কমতি রাখছে না সংস্থা। কারণ, প্রতিটি রুমেই এবার এয়ারকন্ডিশনিং ব্যবস্থা, অক্সিজেন জেনারেশন সিস্টেম, জল রিসাইকেলিং প্রযুক্তি, তাপমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সৌরঝড় থেকে রক্ষার জন্য রেডিয়েশন ফিলটার, এমনকি জরুরী পরিস্থিতির জন্য আলাদা এস্কেপ সিস্টেম থাকবে। আর সব মিলিয়ে মহাকাশের মাঝেও আধুনিক পৃথিবীর স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ ৭৫ দেশের ভিসা বন্ধ করল আমেরিকা
খরচ শুনলে কপালে উঠবে চোখ
তবে এবার নিশ্চয়ই মনে আসতে পারে যে, আমিও কি চাঁদের এই হোটেলে থাকতে পারব? না, সবার পক্ষে এই স্বপ্ন সম্ভব নয়। কারণ, শুধুমাত্র রিজার্ভেশন আবেদন করতেই লাগবে প্রায় ২.৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ ডলার ডিপোজিট। আর চূড়ান্তভাবে থাকার খরচ মোটামুটি এক কোটির বেশি ডলার ছাড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও স্কাইলার চ্যান জানিয়েছেন, এই হোটেলের মাধ্যমে জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে পৃথিবী এবং অসংখ্য তারা দেখা যাবে। এমনকি মুন ওয়াকিং বা চাঁদের বুকে হাঁটার অভিজ্ঞতাও পাওয়া যাবে। আর চাঁদে গলফ খেলার পরিকল্পনাও রয়েছে। ঠিক যেমন ১৯৭১ সালে নাসার নভোচারী অ্যালান শেফার্ড করেছিলেন। শুধু এখন সময়ের অপেক্ষা।