নিপা ভাইরাসকে রুখতে মানতেই হবে এই নিয়ম, কড়া নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

Nipah Virus

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) আতঙ্কে কাঁপছে পশ্চিমবঙ্গ৷ মনে হচ্ছে যেন করোনার পুরোনো স্মৃতি ফিরে এসেছে। ইতিমধ্যেই নিপা আক্রান্ত সন্দেহে দুই নার্সের চিকিৎসা চলছে৷ অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় তাঁরা বর্তমানে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন৷ অন্যদিকে, নিপা আক্রান্ত সন্দেহে আরও এক নার্সকে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিয়ে আসা রয়েছে৷ আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে তাঁকে৷ এই অবস্থায় বিশেষ গাইডলাইন প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

বিশেষ গাইডলাইন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের

সম্প্রতি রাজ্যে নিপার উৎপাত যেভাবে বাড়ছে তা প্রতিরোধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে রাজ্য সরকার। নিপায় আক্রান্ত অথবা ‘নিপার’ উপসর্গ থাকা রোগী এবং তাদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন তৈরি করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের ৫ সদস্যের চিকিৎসক দল। বলা হয়েছে, নিপা আক্রান্ত কিংবা নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর সঙ্গে বদ্ধ এবং সীমাবদ্ধ জায়গায় একসঙ্গে থাকা কোনো ব্যক্তির কাছে সেটি ‘হাইরিস্ক’। তাই সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে। নিপায় আক্রান্ত অথবা নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর রক্ত, ফ্লুইড, লালা, হাঁচি-কাশির ড্রপলেট ইত্যাদির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে ২১ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে।

২১ দিনের পর্যবেক্ষণ

এছাড়াও গাইডলাইনে নিপার উপসর্গ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য দফতর থেকে জানানো হয়েছে, হোম কোয়ারেন্টিন থাকাকালীন রোগীকে দিনে ২ বার চিকিৎসা করাতে হবে। তবে উপসর্গ ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে হোম কোয়ারেন্টিন থাকা ব্যক্তিকে। রাখতে হবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। অন্যদিকে নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর জামা-কাপড়ের সংস্পর্শে এলে অথবা রোগীর সংস্পর্শে এলেও ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এবং প্রত্যেকদিন তাঁকে ফোন করে খোঁজ নেবে স্বাস্থ্য ভবন। যদি তাঁরও উপসর্গ দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে তাঁকে। যাদের কোনও উপসর্গ নেই, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসেবে, একটি বিশেষ ধরনের অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

আরও পড়ুন: বাংলার লোকাল ট্রেনেও বসছে কবচ! কোন কোন লাইনে? তালিকা দিল রেল

টেস্ট সংক্রান্ত সরকারি গাইডলাইন

নিপা ভাইরাস আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য বিশেষ গাইডলাইন প্রকাশ করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। যে রোগীর পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে, ৫ দিন অন্তর তাঁর নমুনা পরীক্ষা করা হবে। লালারস, ইউরিন এবং রক্ত এই ৩টি নমুনার আলাদা আলাদা রিপোর্ট যদি একদিনের মধ্যে দু’বার নেগেটিভ আসে, তবেই রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছা়ড়া হবে। এর পর আরও ৯০ দিন পর্যন্ত রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখারও নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। RTPCR টেস্টের জন্য রোগীদের নমুনা দ্রুত পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

আরও পড়ুনঃ মুখে হাসি ফোটাল সোনার দাম, রুপো কত? আজকের রেট

এছাড়াও রোগীর যদি একদিনের মধ্যে অন্তত দু’বার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তবেই ওষুধ বন্ধ হবে, নয়তো নয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের কেউ যদি এই ধরনের রোগীর সংস্পর্শে আসেন, এবং কোনো উপসর্গ ছাড়াই তিনি যদি মাস্ক পরে, PPE কিট ব্যবহার করে সেক্ষেত্রে তাঁকে কোয়ারেন্টিন করার কোনও প্রয়োজন নেই।

Leave a Comment