সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতীয় রেলে এবার কেলেঙ্কারি। বছরের পর বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে অবসর নেওয়া রেল কর্মীদের সম্মান জানাতে এতদিন যে সোনালী রুপোর মেডেল বা কয়েন (Indian Railways Medal) উপহার দেওয়া হত, আদতে সেগুলি রুপোর নয়। হ্যাঁ, ল্যাবরেটরী পরীক্ষায় এমনই তথ্য সামনে এসেছে। পরীক্ষায় দেখা দিয়েছে, ওই মেডেলগুলোর মূল উপাদান তামা, যার মধ্যে রুপো উপস্থিত মাত্র ০.২৩ শতাংশ। আর এই ঘটনায় আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সম্মান নিয়েও উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
ল্যাব পরীক্ষায় ফাঁস হল আসল তথ্য
আসলে এই সন্দেহ দানা বাঁধার পর রেলওয়ে ভিজিল্যান্স বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে NABL অনুমোদিত ল্যাব এবং একটি সরকারি পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠিয়েছিল। আর রিপোর্টে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয় যে, কয়েনগুলির প্রধান উপাদান তামা। এমনকি তাতে রুপোর পরিমাণ মাত্র ০.২৩ শতাংশ। আর নির্ধারিত মান অনুযায়ী এগুলিকে রুপোর কয়েন বলার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ভোপালের জেনারেল স্টোরস ডিপোর মাধ্যমে ইন্দোরের একটি সংস্থাকে মোট ৩৬৪০টি কয়েন সরবরাহ করার অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। তবে এর মধ্যে মাত্র ৩৬৩১টি কয়েন সরবরাহ হয়েছিল। আর প্রতিটি ২০ গ্রাম কয়েনের দাম ধরা হয়েছিল আনুমানিক ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা ।আর সেই কয়েনগুলি নিয়েই উঠছে এখন বড়সড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ কালিম্পংকে শীতে টক্কর দক্ষিণবঙ্গের ২ জেলার, সোম থেকে অন্য রূপ দেখাবে আবহাওয়া
প্রসঙ্গত, ওয়েস্টার্ন রেলের প্রাক্তন চিফ লোকো ইন্সপেক্টর টি.কে. গৌতম অবসর গ্রহণের সময় পাওয়া ওই সোনালী কয়েনটি আগলে রেখেছিলেন। তবে এখন তিনি বলছেন, আগে এই ধরনের স্মারক শুধুমাত্র সরকারি টাঁকশাল থেকেই তৈরি করা হত। এর আলাদাই একটা সম্মান ছিল। এখন মনে হচ্ছে আমাদের সম্মানটুকুই মনে হয় ভুয়ো! পাশাপাশি একই অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন ভোপাল কোচ ফ্যাক্টরির প্রাক্তন কর্মী হাসরত জাহান। তিনি ৩৬ বছর কাজ করার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে অবসর নেন। তিনি বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল কয়েনটিতে ৯৯% রুপো আছে। আমি খুব যত্নে সেটিকে রেখে দিয়েছিলাম। এখন শুনছি রেল নিজেরাই এফআইআর করেছে যে ওটা তামার তৈরি। ভীষণ অপমানিত বোধ হয়েছি।
আরও পড়ুন: নিজের প্রাক্তন স্বামীকে ‘বেকার’ তকমা দিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মেরি কম, তারপর যা হল…
কোটি কোটি টাকা প্রতারণার আশঙ্কা
বলাবাহুল্য, প্রতিটি কয়েনে যদি গড়ে ২২০০ টাকা করে প্রতারণা করা হয়ে থাকে, তাহলে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ছুঁতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। আর বিষয়টি এখন শুধুমাত্র কেনাকাটার গরমিল নয়, বরং সংগঠিত দুর্নীতির দিকেই এগোচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন দেখার ভারতীয় রেল কী পদক্ষেপ নেয়।