১০ গ্রাম কম দিলেও ধরা পড়বেন রেশন ডিলার, নয়া ব্যবস্থা সরকারের

Ration System

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে রেশন দোকান থেকে কম সামগ্রী পাওয়ার অভিযোগ উঠছে দীর্ঘদিন ধরেই। তবে এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে হেঁটেছে রাজ্য সরকার। হ্যাঁ, খাদ্য এবং বেসামরিক সরবরাহ দফতর রেশন ব্যবস্থায় (Ration System) নতুন এক প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা চালু করল। যার ফলে রেশন বন্টনে কোনও রকম অনিয়ম বা জালিয়াতি করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।

রাজ্য সরকারের নতুন ব্যবস্থা

সম্প্রতি রাজস্থান রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পিওএস মেশিন এবং ইলেকট্রনিক ওজন মাপার যন্ত্রকে ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেকোনও রেশন সামগ্রী মাপার সময় ও পিওএস মেশিনের তথ্য দেওয়ার মধ্যে সরাসরি সমন্বয় থাকবে। এমনকি ওজনে সামান্য তারতম্য হলে সঙ্গে সঙ্গে তা মেশিনে ধরা পড়বে।

আর এই ব্যবস্থার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলে, যতক্ষণ না নির্দিষ্ট পরিমাণ গম ওজন মাপার যন্ত্রে উঠছে, ততক্ষণ পিওএস মেশিন থেকে রশিদ কিংবা স্লিপ বেরোবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কারও প্রাপ্য গম ১০ কেজি হয়ে থাকে, তাহলে ঠিক ১০ কেজি ওজন না হলে মেশিন “OK’ দেখাবে না এবং স্লিপ ইস্যু হবে না। এমনকি মাত্র ১০ থেকে ২০ গ্রাম কম বেশি হলেও সঙ্গে সঙ্গে তা ধরা পড়ে যাবে।

এতদিন যাবৎ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যেত যে, পিওএস মেশিনে পুরো ওজন এন্ট্রি করা হলেও বাস্তবে ওজন দেওয়ার সময় গোপনে কম পরিমাণ সামগ্রী দেওয়া হতো। তবে নতুন এই প্রযুক্তি চালু হলে সেরকম কারচুপি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। আর এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ রেশন গ্রাহকরা নির্দিষ্ট ওজন অনুযায়ী গম পাবে। পাশাপাশি রশিদে লেখা বা বাস্তবে পরিমানের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকবে। এমনকি কোনও রকম সমস্যা হলে রশিদের ভিত্তিতে সহজে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাওয়া যাবে। আর ওজনে গরমিল হলে গ্রাহকরা সঙ্গে সঙ্গে দোকানদারকে জানাতে পারবে। সমস্যার সমাধান না হলে লজিস্টিক দফতরেও অভিযোগ করা যাবে।

আরও পড়ুন: সবাইকে জামিন দিয়ে দেব! রাজ্য সরকারের উপর ক্ষোভে ফেটে পড়ল হাইকোর্ট

ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হচ্ছে নতুন মডেল

এদিকে উদয়পুর জেলার ডিস্ট্রিক্ট লজিস্টিক অফিসার মনীষ ভাটনগর জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই নতুন মডেল কার্যকর হবে। শুধুমাত্র উদয়পুর জেলাতেই প্রতি মাসে প্রায় ৭৭০০ মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি মাসে গোটা রাজ্যে মোট ২১.৩৩ লক্ষ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের সমস্ত জেলার রেশন ডিলারদের জন্য ডেডলাইন নির্ধারণ করে দিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সমস্ত রেশন দোকানকে এই পিওএস মেশিন এবং ওজন মাপার ডিজিটাল যন্ত্রে ব্লুটুথ সংযোগ করতে হবে। নাহলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গেও চলছে একই পদ্ধতি

তবে রাজস্থানে এই ব্যবস্থা নতুন হলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের রেশন ডিলারদের বেশ কয়েকমাস ধরেই এই নিয়ম মেনে সামগ্রী বণ্টন করতে বলেছে। আর সেই নির্দেশ মেনেই বাংলার প্রতিটি রেশন দোকানে এখন সামগ্রী দেওয়া হয়।

Leave a Comment