“আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে!” আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় দাবি ‘ননসেন’ শমীক অধিকারীর

Shamik Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ ‘ননসেন’ নামে খ্যাত বাংলা ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারীকে (Shamik Adhikari) ঘিরে চাঞ্চল্য দিনের পর দিন বাড়ছে। এক তরুণীকে বেআইনিভাবে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতি এখন তোলপাড়। তবে এবার শমীক স্পষ্ট দাবি করলেন যে, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।

ঠিক কী অভিযোগ উঠছে?

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারী এক ২২ বছরের তরুণী। তাঁর দাবি, বন্ধুত্বের সূত্রে গত ২ ফেব্রুয়ারি তিনি শমীক অধীকারের বেহালার বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়। তরুণীর দাবি, রাত সাড়ে ন’টা থেকে পরদিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় ২০ ঘণ্টা তাঁকে জোর করে ঘরে আটকে রাখা হয়। এমনকি একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। সবথেকে বড় ব্যাপার, তাঁকে নাকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দক্ষিণ কলকাতার বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই তরুণী। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে বলেই পুলিশের দাবি। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলা শমীক অধিকারীকে দমদম থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর ,ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারার পাশাপাশি ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্বীকারোক্তি শমীক অধিকারীর?

তবে গ্রেফতারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা ছড়ায় যে, অভিযুক্ত নাকি পুলিশের কাছে অভিযোগ স্বীকার করেছে। কিন্তু সেই দাবি বেহালা থানার পুলিশ আধিকারিক সম্পূর্ণ ভুয়ো বলেই উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর কথায়, স্বীকারোক্তির খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন  এবং তদন্ত চলমান। এমনকি আদালতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবথেকে বড় ব্যাপার, থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় শমীক অধিকারী। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, “শমীক বাবু আপনি কি কিছু বলবেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে!”

আরও পড়ুন: আমেরিকার সাথে ইউনূসের ‘গোপন’ চুক্তিতে রপ্তানি বাজারে নামবে ধস! আশঙ্কা বাংলাদেশে

প্রসঙ্গত বলে রাখি, অভিযুক্ত শমীক অধিকারী রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে ‘বাটন’ বলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিল। সেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক দৃশ্য তুলে ধরেন। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ওই ভিডিওটি রাজ্যের শাসক দলের বিরোধিতা করেই করা। তবে তাঁর গ্রেফতারের পর এ নিয়েই রাজনৈতিক তরজা শুরু হতে থাকে। এমনকি বিরোধী দল তৃণমূলকেই কাটগড়ায় তুলছে।

Leave a Comment