সিঁদুরে ঝটকা, সৈন্যশক্তিতে অনেকটাই তলানিতে পাকিস্তান! ভারত কোথায়? দেখুন তালিকা

2026 Military Strength Ranking

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামরিক শক্তির দিক থেকে বিশ্বের মধ্যে কোন দেশ কতটা এগিয়ে তা নিয়ে প্রতিবছর তালিকা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সামরিক সমীক্ষক সংস্থা গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার। সেই অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ইনডেক্স (2026 Military Strength Ranking) প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে মোট ১৪৫টি দেশকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এই সূচক। তবে সেখানে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও পয়েন্টে কিছুটা পতন ঘটেছে। অন্যদিকে সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তান এক ধাক্কায় অনেকটাই তলানিতে ঠেকেছে, আর চিন হারিয়েছে বেশ কিছু পয়েন্ট। ভাবছেন বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়? বিশদে জানতে চোখ রাখুন এই প্রতিবেদনে।

কীভাবে তৈরি হয় এই তালিকা?

প্রথমেই জানিয়ে রাখি, গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার সূচক তৈরি করার জন্য ৬০টি ভিন্ন ভিন্ন মানদন্ড বিচার করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সামরিক বাজেট, সক্রিয় সেনা সংখ্যা, আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষার অবকাঠামো, লজিস্টিক এবং যুদ্ধ প্রযুক্তি। আর এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যে দেশের পাওয়ার ইনডেক্স নম্বর যত শূন্যের কাছাকাছি, সেই দেশ ততটা শক্তিশালী হয়।

শীর্ষস্থানে আমেরিকা

রিপোর্ট বলছে, এ বছর তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের পাওয়ার ইনডেক্স ০.০৭৪১। আর গত বছর তাদের এই ইনডেক্স ছিল ০.০৭৪৪। অর্থাৎ, তাদের সামরিক ক্ষমতা আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র একেবারে নিখুঁত সাফল্য দেখিয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে রাশিয়া

এদিকে সামরিক শক্তির দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া। কারণ, তাদের পাওয়ার ইনডেক্স ০.০৭৯১, যেখানে গত বছর ছিল ০.০৭৮। নম্বর সামান্য কমলেও র‍্যাঙ্ক রয়েছে অপরিবর্তিত। ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘদিন চললেও ভূখণ্ড রক্ষা থেকে শুরু করে নিষেধাজ্ঞা সামলেও উৎপাদন এবং নতুন অস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার এই অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে।

তৃতীয় স্থানে চিন

জিনপিং-এর দেশ তৃতীয় স্থান ধরে রাখলেও পয়েন্ট অনেকটাই কমেছে। কারণ, তাদের পাওয়ার ইনডেক্স ০.০৯১৯। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এর পেছনে রয়েছে পিএলএ-র মূল অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ। পাশাপাশি নেতৃত্বে স্থানীয় কিছু টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল। আরে এগুলোই সামরিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে।

চতুর্থ স্থানে ভারত

জানা গিয়েছে, ভারত এ বছর চতুর্থ স্থান ধরে রেখেছে। ভারতের পাওয়ার ইনডেক্স ০.১৩৪৬, যেখানে গত বছর ছিল ০.১১৮৪। অর্থাৎ, নম্বর কিছুটা হলেও কমেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা গবেষণায় তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগ এবং শীর্ষ তিন দেশের তুলনায় বাজেট কম হওয়ায় ভারতের ইনডেক্স সামান্য তলানিতে ঠেকেছে।

তবে হ্যাঁ, ভারত সরকার সামরিক খাতে বরাদ্দ অনেকটাই বাড়িয়েছে। কারণ, ২০২৬-২৭ বাজেটে ৭.৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা ছিল ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মোট ১৫.৩% বাজেট বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিকীকরণে মোট ২.৯ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যাও ২১% বৃদ্ধি। আর জিডিপির প্রায় ১১% প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হচ্ছে বলেই খবর।

আরও পড়ুন: SIR নিয়ে আজ ফের শুনানি সুপ্রিম কোর্টে, সশরীরে নাকি ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন মমতা?

বিরাট ঝটকা খেল পাকিস্তান

এদিকে এই তালিকায় সবথেকে বড় ধাক্কা খেয়েছে সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তান। কারণ, ২০২৪ সালে তারা এই তালিকায় ছিল নবম স্থানে, ২০২৫ সালের নেমে যায় ১২ তম স্থানে, আর ২০২৬ সালে নেমে এসেছে একেবারে ১৪ তম স্থানে। তাদের পাওয়ার ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে এখন ০.২৬২৬। দেশটির এই পতনের মূল কারণ হচ্ছে ভারতের সামরিক অভিযানে ক্ষতি, এয়ারবেস আর যুদ্ধবিমান ধ্বংস, সীমান্ত সংঘর্ষে দুর্বলতা আর অর্থনৈতিক সংকট। বিশেষ করে অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে তারা একেবারে তলানিতে ঠেকেছে।

রিপোর্ট বলছে, প্রথম দশে থাকা দেশগুলি হল যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক এবং ইটালি। তবে সবথেকে উল্লেখ করার বিষয়, এই তালিকায় কয়েকটি দেশ পরমাণু শক্তিধর নয়। তবুও সামরিক শক্তিতে একেবারে শীর্ষস্থানে। এছাড়াও তালিকায় ৩৭ নম্বর রয়েছে পড়শী দেশ বাংলাদেশ। ৩১ নম্বর রয়েছে উত্তর কোরিয়া, ইরান ১৪ থেকে ১৬ নম্বরে ঠাই পেয়েছে, ইজরায়েল রয়েছে ১৫ নম্বরে, আবার জার্মানি ১৯ থেকে ১২ নম্বর স্থানে উঠে এসেছে।

Leave a Comment