সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পড়াশোনার জগতে খান স্যার এক জনপ্রিয় নাম। ইউটিউব থেকে শুরু করে অফলাইন ক্লাসের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর প্রিয় শিক্ষক তিনি। তবে এবার শিক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিরাট উদ্যোগ নিলেন এই খ্যাতনামা শিক্ষক। বিহারের রাজধানী পাটনায় তিনি চালু করেছেন এক অত্যন্ত স্বল্প খরচের হাসপাতাল (Khan Sir Hospital), যেখানে সাধারণ মানুষ নূন্যতম খরচে চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারবে।
খান স্যারের এই হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, বরং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা আরও সহজলভ্য করে তোলা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনেক দরিদ্র মানুষ টাকার অভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিকিৎসা পান না। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই এই উদ্যোগ। আর এই হাসপাতাল তৈরির পেছনে রয়েছে তাঁর বড় অনুপ্রেরণা ‘মায়ের স্বপ্ন’। যাতে কোনও গরিব মানুষ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই জন্যই এই উদ্যোগ।
খরচ শুনলে ভিমড়ি খাবেন
জানা গিয়েছে, খান স্যারের এই হাসপাতলে বিভিন্ন রকম পরীক্ষা করানো হবে একেবারে জলের দরে। হ্যাঁ, রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে মাত্র ৭ টাকায়, ইসিজি হবে মাত্র ২৫ টাকায়, এক্স-রে হবে ৩৫ টাকায়, আল্ট্রাসাউন্ড হবে ১০০ টাকায় এবং ডায়ালিসিস হবে মাত্র ৩৫০ টাকার বিনিময়ে। আর এই দামে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া বর্তমান বাজারে সত্যিই যে অকল্পনীয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রসঙ্গত, খান স্যার শুধুমাত্র যে একজন ইউটিউবার এমনটা নন, বরং তিনি বহু ছাত্র-ছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণা। প্রথম জীবনে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিপুল স্বপ্ন ছিল তাঁর। তবে শারীরিক যোগ্যতার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। এরপর শিক্ষাক্ষেত্রকেই তিনি বেছে নেন। দরিদ্র ছাত্রদের জন্য স্বল্প খরচে চালু করেন কোচিং। আর শিক্ষার পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য সমস্যাতেও তিনি বারবার সরব হয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যের খরচ নিয়ে।
আরও পড়ুন: জোর করে বাংলাদেশকে দিয়ে নিজেই চিঠি লিখেছিল PCB, ফাঁস নকভিদের কুকীর্তি!
নিজের ক্লাস ও সাক্ষাৎকারে খান স্যার বহুবার জানিয়েছেন, ওষুধ এবং চিকিৎসার খরচ দিনের পর দিন বাড়ছে। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে চিকিৎসা। আর সরকারি হাসপাতালেও অনেক সময় খরচ খুব একটা কম হয় না। এমনকি তিনি জানিয়েছেন, এটি কেবল শুরু। বিহারের বিভিন্ন জায়গায় চার থেকে পাঁচটি হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে, যাতে এক জায়গায় রোগীদের অতিরিক্ত ভিড় না হয়। পাশাপাশি আলাদা আলাদা রোগের জন্য বিশেষ বিভাগ থাকবে, আর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ নিয়ে গবেষণাও করা হবে।