সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণের খবরের মধ্যেই এবার ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা স্বীকার করল ইজরায়েল (Israel Attack on Iran)। হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং ইজরায়েলের বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, এই হামলায় ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আর সেই অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির (Ayatollah Khamenei) বাসভবনও হামলার আওতায় পড়েছিল। যদিও তিনি বর্তমানে তেহরানে নেই। তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেই দাবি। তবে ইরানের তরফ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তেহরানের ৩০টি স্থানে হামলার দাবি
ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের প্রায় ৩০টি স্থানে নাকি ইজরায়েল হামলা চালিয়েছে। যার মধ্যে সামরিক ঘাঁটি, গোয়েন্দা দফতর এবং প্রশাসনিক ভবনগুলিও অন্তর্ভুক্ত। আর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আবাসনও লক্ষ্যবস্ত করা হয়েছে বলে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী খবর। এমনকি আয়াতুল্লাহ খামেনির বাসভবন তো রয়েছেই। কিন্তু কিছু কিছু সূত্রে দাবি করা হচ্ছে যে, এই হামলা সফল হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। এমনকি ইরানের মুখপাত্র এবং প্রেসিডেন্টের দফতরের তরফ থেকেও এ নিয়ে কোনও রকম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি।
উল্লেখ্য, শনিবার তেহরানের ডাউনটাউন এলাকায় প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। আর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ধোয়ার কুন্ডলিও দেখতে পাওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শিরা দাবি করে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে মার্কিন সুত্র উদ্ধৃত করেই জানানো হয়, ওই অভিযান ইজরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ হতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র কিছু জানায়নি। এমনকি ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানাচ্ছে, তেহরানের মেহরাবাদ, বিমানবন্দর এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত থানা হয়েছে। এছাড়াও মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্ট ভবনের উপরেও হামলার দাবি উঠছে।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের হামলায় কোণঠাসা পাকিস্তান! ভয়াবহ পরিস্থিতি সীমান্তে
এ বিষয়ে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের বিরুদ্ধে অ্যাটাক চালানো হয়েছে। তবে সম্ভাব্য হুমকি নিষ্ক্রিয় করায় এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল। এমনকি হামলার পর তেহরানে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলেই খবর। পাশাপাশি বহু জায়গায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইজরায়েলেও ঘোষণা করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। নাগরিকদের বাঙ্কারে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর স্কুল, কলেজ এবং অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির আকাশসীমাও বর্তমানে বন্ধ।