বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হঠাৎ সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের গলায় ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, জসপ্রীত বুমরাহদের নাম (Cji Suryakant On Suryakumar Yadav)। সম্প্রতি এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে একেবারে ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গ টানেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। এদিন মূলত জুনিয়র আইনজীবী বা আইনের ছাত্রদের উদ্দেশ্য করেই প্রধান বিচারপতি বুঝিয়েছিলেন নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হওয়াটা ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য ছিল, সব ক্রিকেটার যেমন সব চরিত্রে মানানসই নয়, তেমনই আইনজীবীরাও এই পেশার প্রত্যেক ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হতে পারে না।
হঠাৎ সূর্যকুমারের নাম শোনা গেল প্রধান বিচারপতির গলায়
Live Law এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত 28 ফেব্রুয়ারি, গুজরাত ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি ভাষণ দেওয়ার সময় বলেন, সূর্যকুমার যাদবকে ডেথ ওভারের সময় বোলিং করানো হবে এমনটা কেউ আশা করে না। কেউ আশা করে না যে জসপ্রীত বুমরাহ টপ অর্ডারে ব্যাট করে রান তাড়া করবেন। একইভাবে আইনজীবীদের ক্ষেত্রেও নিজেদের শক্তিশালী জায়গাগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বোঝাতে চেয়েছিলেন, সব পজিশনে সবাইকে মানায় না। আইনজীবীদের ক্ষেত্রেও সবাই সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে পারেন না। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজেরা যে ক্ষেত্রে বেশি পটু সেই ক্ষেত্রে বেশি করে কাজ করা। এদিন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার প্রিয় স্নাতকরা, আপনারা এই পেশায় কোথায় ফিট করেন সে সম্পর্কে নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে। এই কাজটা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা এই পেশায় সবকিছু করার চেষ্টা করেন সব ভূমিকায় কাজ করতে চান তাদের ক্ষেত্রে সাফল্য আসার সম্ভাবনা খুব কম।”
চন্দ্রকান্ত আরও বলেন, “আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ ক্রিকেট পছন্দ করেন। আপনাদের মধ্যে কেউ যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখে থাকেন তাহলে আপনারা একটা বিষয় লক্ষ্য করে থাকবেন সব দল কিন্তু এমনটা আশা করে না যে তাদের প্রত্যেক প্লেয়ার সব ক্ষেত্রে পটু হোক। এমনটা কেউ আশা করবে না যে সূর্যকুমার যাদব ডেথ ওভারে বোলিং করতে আসবেন। এমনটাও কেউ আশা করবে না যে জসপ্রীত বুমরাহ প্রথমদিকে ব্যাট করে রান চেজ করবেন।”
অবশ্যই পড়ুন: মূল বেতনের সঙ্গে মিশে যাবে ৫০% DA? সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর
এদিন সূর্যকান্তের সংযোজন ছিল, বড় মাপের আইনজীবীরা কখনই সবকিছু করে উচু পদে পৌঁছননি। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে যে আমি কোন বিষয়ে বেশি পটু। এই প্রশ্ন নিজেকে বারবার জিজ্ঞেস করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে আইনজীবীদের তাদের কাজের প্রতি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ এবং আত্মবিশ্বাসী দেখায় তারা সেইসব লোক যারা আসলেই অ্যাডভোকেসি শুরু করে। এক কথায়, আইনের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে দেশের প্রধান বিচারপতির উপদেশ ছিল, তাঁরা যে ক্ষেত্রে বেশি পটু সেদিকেই যেন বিশেষভাবে নজর দেন।