বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলার পর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ক্ষেপে গিয়েছে ইরান। আর তারপরেই মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে আমেরিকার একের পর এক সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করছে তারা। আর এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি 13 শতাংশ দাম বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের। গত ফেব্রুয়ারিতে যেই দাম ব্যারেল প্রতি 65 থেকে 67 ছিল তাই ইতিমধ্যেই 82 ডলার ছুঁয়ে ফেলেছে। আশঙ্কা আগামীতে এই তেলের দাম আরও বাড়বে। কারণ বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখনই থামার নয়। ঠিক সেই আবহে দেশে তেলের যোগান অব্যাহত রাখতে নতুন পরিকল্পনা ফাঁদছে ভারত (India On Oil Price)।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে হুঙ্কার ইরানের
যুদ্ধ আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ করার পাশাপাশি ইরান একেবারে হুঁশিযারি দিয়ে বলেছে যদি কেউ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হবে। বলাই বাহুল্য, গোটা বিশ্বে তেলের বাণিজ্যের অন্তত 20 শতাংশ হয়ে থাকে স্ট্রেট অফ হরমুজ প্রণালী হয়ে। অন্যদিকে বিশ্বের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ হয় এই স্ট্রেট অফ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে সবার প্রথমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এই জলপথ। আর এই পথ থেকে তেল যাতায়াত না করতে পারলে গোটা বিশ্বের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যে বাড়বে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিকল্প ভেবে রেখেছে ভারত
এই মুহূর্তে যা অবস্থা তাতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এখনই কমছে না। আর সেটা না হলে হরমুজ প্রণালী খুলবে না ইরান। অনির্দিষ্টকালের জন্য এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে তেলের দাম আকাশ ছোঁয়া হবে, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, এই সংঘাতের পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম গোটা বিশ্বে পৌঁছে যেতে পারে ব্যারেল প্রতি 100 ডলার বা তারও বেশি অর্থে। এমনটা হলে পেট্রোলিয়ামের দামও অন্তত 40 শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। যার ধাক্কা দিয়ে পড়বে সরাসরি পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যে পেট্রোলের দাম 100 থেকে 105 টাকা, আগামী দিনে সেটারই দাম হয়ে দাঁড়াতে পারে 140 থেকে 145 টাকা।
মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মধ্যে তেলের দামের ব্যাপক বৃদ্ধির আঁচ যাতে ভারতবাসীর পকেটে না পড়ে সেজন্যই নাকি নতুন পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন তেল কোম্পানি গুলির সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারের। কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে পেট্রোল, ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা, রাশিয়া থেকে ফের অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়ানো সহ অন্য কোনও বিকল্প দেশ থেকে তেল কেনা যায় কিনা সেই সব দিকে নিয়ে বৈঠক চলছে সরকারি আধিকারিকদের।
অবশ্যই পড়ুন: সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ডোবাতে পারেন ভারতের এই ৬ প্লেয়ার
তবে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর কারণে ভারতের উপর থেকে শুল্ক কমিয়েছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, বাণিজ্য চুক্তিতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এমতাবস্থায়, ভারত যদি ফের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ায় সেক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতিগতি কোন দিকে গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে রয়েছেন অনেকে। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই বলছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেলে আমদানি বাড়িয়ে দিলে ফের শুল্ক বাড়াতে পারে আমেরিকা। যদিও নয়া দিল্লি চিরকালই বলে এসেছে, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার্থে যেখান থেকে তেল কিনতে হয় কিনবে ভারত।