প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্য জুড়ে বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা, তাই এখন থেকেই সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ময়দানে নেমে পড়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদরা। আর এই অবস্থায় দোলের দিন জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) ঘটে গেল এক নক্কারজনক ঘটনা। জানা গিয়েছে, মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল। চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি এলাকা জুড়ে। শেষে বিজেপি কর্মীকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দিল উত্তেজিত জনতা।
মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে ধর্ষণ!
জলপাইগুড়ির বিবেকানন্দ পল্লিতে বিজেপির পার্টি অফিস রয়েছে। রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, দোলের দিন দুপুর প্রায় একটা নাগাদ পরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলাকে সেই পার্টি অফিস নিয়ে আসে নিতাই রায় নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা। আর সেখানেই ওই মহিলাকে নির্মমভাবে শারীরিক অত্যাচার করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমার রায় এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, তিনি সঙ্গে সঙ্গে জলপাইগুড়ি কোতয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামে এবং রাতেই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার করে। আজ, বুধবার তাকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে হাজির করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার বিজেপির
ধর্ষণের অভিযোগ উঠতেই বিজেপির দাবি, অভিযুক্ত বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নন। দলকে কালিমালিপ্ত করতে চক্রান্ত করে এই অভিযোগ করা হয়েছে। সম্পূর্ণটাই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পরিকল্পনা। এই প্রসঙ্গে বিজেপির জলপাইগুড়ির-সহ সভাপতি চন্দন বর্মন বলেন, “এটি সাজানো চক্রান্ত। বিজেপিকে বদনাম করার জন্যই একজন অসুস্থ মানুষ কে দিয়ে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।” একই সঙ্গে অভিযুক্ত দলের কেউ নন বলে দাবি করেন তিনি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কোতায়ালি থানার পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো পারিপার্শ্বিক তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গুজরাতের বোমা হুমকি ই-মেল কাণ্ডে গ্রেফতার বাংলার যুবক, তদন্তে নামল পুলিশ
বিবেকানন্দ পল্লীর বাসিন্দাদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি এলাকায় বিজেপির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। ওই দলীয় কার্যালয়েই সে নিয়মিত রাত কাটাত। তাঁরা এই ঘটনায় দোষীর কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে এলাকায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।