খামেনির মৃত্যুর ৪ দিন পরও নীরব মোদি, নিন্দা করেনি ভারত! নেপথ্যে কী কারণ?

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ভয়ংকর যুদ্ধ যেন কিছুতেই থামতে চাইছে না। গতকালও নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে গত শনিবার, মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র (Ayatollah Ali Khamenei Death) মৃত্যু হয়েছিল। যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছিল, ভারতেও সেই ঘটনার ছায়া পড়েছে। বিরোধীরা সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দাবি করে চলেছে। কিন্তু এদিকে খামেনির মৃত্যুর ৪ দিন কেটে গেলেও এখনও নীরব মোদি সরকার। দেওয়া হয়নি কোনো বিবৃতি।

খামেনির মৃত্যু নিয়ে নীরব মোদি

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এমনকি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথ সংবাদিক বৈঠকেও তিনি জানিয়েছেন, “ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। ভারত সর্বদা এই ধরনের বিরোধের সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সংলাপ এবং কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছে।” অর্থাৎ মধ্য এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সংযম এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু একবারের জন্যও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র মৃত্যু নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। আর তাতেই অবাক সকলে। আসলে নয়াদিল্লি আগ বাড়িয়ে দুনিয়ার বৃহৎ শক্তিকে চটাতে চাইছে না বলেই মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।

চুপ উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলিও

ইরান ইজরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে এই মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় আটকে রয়েছে, তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে ভারত সরকার। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে উপকূলীয় দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কারণ ইরান যে ভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জনবহুল এলাকাগুলিতেও হামলা চালাচ্ছে, তাতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দেরও জীবন সংকটের মুখে পড়েছে। এদিকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলিও বেশিরভাগই পশ্চিমী শক্তির পক্ষে, তাই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র মৃত্যু নিয়ে নীরব আছে। জাপান এবং জার্মানি স্থিতিশীলতা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কিন্তু কোনও শোক বিবৃতি দেয়নি।

আরও পড়ুন: নির্বাচিত হলেন মুস্তাফিজুর রহমান, বড় সিদ্ধান্ত IPL মালিকদের!

কেন্দ্রের তরফে কিছু না জানানো হলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের আবহে ভারত একটি পক্ষকে যে সমর্থন করে সেই নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনও লিখেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। যা নিয়ে দেশে বেশ শোরগোল পরে গিয়েছিল। এদিকে খানিক পিছনের দিকে গেলে দেখা যাবে ভারতের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অনভিপ্রেত মন্তব্য করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি কখনও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ, কখনও CAA আবার কখনও দিল্লির হিংসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল, যা কেন্দ্রীয় সরকারের বিপক্ষে ছিল, আর সকলের ধারণা সেই কারণের জন্যই খামেনি-র মৃত্যু নিয়ে নীরব নরেন্দ্র মোদি। যদিও সবটাই অনুমান, এখনও এই নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।

Leave a Comment