প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের (West Bengal) প্রশাসনিক পদ নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এর আগেও প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের পদ নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক উঠেছিল। যদিও এইসব তর্ক বিতর্ককে পিছনে ফেলে ফের প্রশাসনিক পদ পরিবর্তন করল নবান্ন (Nabanna)। রাজ্যের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস রণবীর কুমারকে (Ranbir Kumar) ট্রাফিক অ্যান্ড রোড সেফটির অ্যাডভাইজর করা হল।
নতুন পদে নিয়োগ IPS রণবীর কুমারকে
রিপোর্ট মোতাবেক, রাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে আরও জোর দিতে বেশ উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। তাই সেই কাজ যাতে আরও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা যায় তাই ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক নতুন উপদেষ্টা হিসেবে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রণবীর কুমারকে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসন মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে রাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। অন্যদিকে রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বাকি তিন প্রার্থী, কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয় এবং মেনকা গুরুস্বামীকে সঙ্গে নিয়ে জমা দিলেন মনোনয়ন পত্র।
চর্চায় রাজীব কুমার
বরাবরই খবরের শিরোনামে থাকেন প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত চলাকালীন রাজীব কুমারের পাশে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়িয়েছিলেন, তা নিয়ে বেশ চর্চা উঠেছিল বিরোধীদের মধ্যে। এক্ষেত্রে রাজীব কুমারকে নিয়ে সিবিআই তদন্তের জট থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ওপর যথেষ্ট আস্থা রেখেছেন তাই সারদা তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধান হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁকে বিধাননগর কমিশনারেটের প্রধান এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে বসানো হয়। এবং সবশেষে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি (DGP) পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল তাঁকে। সম্প্রতি সেই পদ থেকে তিনি অবসর নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভোটের মুখে বাংলায় রাজ্যপাল বদল! দায়িত্বে প্রাক্তন গোয়েন্দাকর্তা! কে এই আর এন রবি?
প্রসঙ্গত, নবান্নে প্রশাসনিক রদবদলের মাঝেই গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আচমকা রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিভি আনন্দ বোস। রাতেই রাষ্ট্রপতি ভবনে পদত্যাগপত্র পাঠানো হলে তা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ভোটমুখী বঙ্গে কেন আচমকা এই পদত্যাগ রাজ্যপালের, সেই কারণ এখনো স্পষ্ট হয়নি, এমনকি এ বিষয়ে সিভি আনন্দ বোস নিজেও কোনও মন্তব্য করেননি। আর এই অবস্থায়, বোসের ইস্তফার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব পেলেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি। অন্যদিকে কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরকে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।