সেভিংস অ্যাকাউন্ট নিয়ে বড় ঘোষণা, চাপ কমল গ্রাহকদের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের কোটি কোটি ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের জন্য এবার বিরাট স্বস্তির খবর। সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman) স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ৭২ কোটি বেসিক সেভিংস ব্যাঙ্ক ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের (Savings Bank Account) ক্ষেত্রে নূন্যতম ব্যালেন্স না রাখলেও কোনও রকম জরিমানা গুনতে হবে না। আর এই সুবিধার আওতায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জন ধন যোজনার আওতায় খোলা অ্যাকাউন্টগুলিও। এক কথায়, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা আরও সহজলভ্য করার জন্যই এই উদ্যোগ।

কী বলেছেন অর্থমন্ত্রী?

রিপোর্ট অনুযায়ী, লোকসভায় লিখিতে উত্তরে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, BSBDA অ্যাকাউন্টগুলো জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট হিসেবেই পরিচালিত হয়। অর্থাৎ, এই ধরনের অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম টাকা রাখা কোনও ভাবে বাধ্যতামূলক নয়। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে গ্রাহকরা অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া বেশ কিছু পরিষেবা পেয়ে থাকেন। যেমন টাকা জমা দেওয়া বা তোলা, এটিএম ব্যবহার, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। সরকারের মতে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় আনার জন্য এই ধরনের অ্যাকাউন্ট চালু করা হয়েছে।

এমনকি অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে প্রায় ৭২ কোটি এই BSBDA অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আর এই সমস্ত অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্স না থাকলেও গ্রাহকদের উপর কোনও রকম জরিমানা আরোপ করা হয় না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুদ্র আমানতকারী এবং অনিয়মিত আয়ের মানুষেরা যে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা উপভোগ করতে পারবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে কী নিয়ম?

কিন্তু সাধারণ সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট বা কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। কারণ, এই ধরনের অ্যাকাউন্টে ব্যাঙ্কগুলোর নির্ধারিত মিনিমাম অ্যাভারেজ ব্যালেন্স রাখতে হয়। আর যদি কোনও গ্রাহক সেই ব্যালেন্স বজায় না রাখতে পারে, তাহলে ব্যাঙ্ক নির্দিষ্ট ফি কেটে নিতে পারে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে নিয়ম নির্ধারণ করে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপর। আর আরবিআই-র নির্দেশিকা অনুযায়ী এই চার্জ যুক্তিসঙ্গত হতে হবে।

আরও পড়ুন: সুদের হার বাড়বে PPF ও সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায়! কতটা?

এদিকে অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে সরকারি ব্যাঙ্কগুলি সঞ্চয় আর চলতি অ্যাকাউন্টে নূন্যতম ব্যালেন্স না রাখার জন্যই প্রায় ৮০৯২.৮৩ কোটি টাকা ফি আদায় করেছে। কিন্তু সরকার দাবি করছে, এই পরিমাণ ব্যাঙ্কগুলোর মোট আয়ের তুলনায় অনেকটাই কম। আর ওই সময়ে সরকারি ব্যাঙ্কগুলির মোট আয়ের মাত্র ০.২৩ শতাংশ এসেছে এই ধরনের চার্জ থেকেই। এমনকি গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কিছু সরকারি ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, ২০২০ সালের মার্চ মাসে স্টেট ব্যাঙ্ক সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্স না রাখার জন্য জরিমানা তুলে নিয়েছিল। এছাড়াও আরও নয়টি সরকারি ব্যাঙ্ক ২০২৫ সালের মধ্যে এই একই পথে হেঁটেছে।

Leave a Comment