সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে। তেলের সরবরাহ (Oil Import) নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। যার ফলে বহু দেশের পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম আর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ (International Energy Agency)। সংস্থার তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিশ্ববাজারে তেলের ঘাটতি সামাল দেওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলির জরুরী মজুদ থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়া হবে।
কেন নেওয়া হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত?
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে গোটা বিশ্বজুড়ে। আর বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ বাড়িয়ে এই সংকট কিছুটা হলেও কমানোর যাবে। তাই এই সিদ্ধান্ত। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি বিশ্ব তেলবাজারের জন্য সবথেকে চ্যালেঞ্জিং। জরুরি তেলের মজুদ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে আরও স্থিতিশীল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বলে রাখি, এই ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি হল একটি আন্তর্জাতিক আন্তঃসরকারি সংস্থা। এদের মূল লক্ষ্য হল বিশ্ব জ্বালানির বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। আর বর্তমানে বিশ্বের ৩২টি দেশ এই সংস্থার সদস্য। জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বা বাজারে কোনও রকম অস্থিরতা বাড়লে সদস্য দেশগুলোর জরুরী মজুদ থেকেই তেল ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। বর্তমানে সংস্থার সদস্য দেশগুলির কাছে আনুমানিক ১.২ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি জরুরী তেলের মজুদ রয়েছে। এছাড়াও শিল্প খাতের কাছে আরও ৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সংরক্ষিত।
আরও পড়ুন: হাওড়া-শিয়ালদা থেকে ১৮টি স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল, দেখুন রুট ও সময়সূচি
কীভাবে আসবে এই তেল?
আইইএ-এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সদস্য দেশগুলির পরিস্থিতি আর প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে তেল বাজারে ছাড়া হবে। যার ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাপ কিছুটা কমতে পারে। কারণ, বিশ্বের সবথেকে বড় অংশের অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকেই। কিন্তু সেখানে এমনিতেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের আশঙ্কা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, সেখান থেকে ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। যদিও খুশির খবর এই যে, আজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরান ভারতের জাহাজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে।