না মানলে এই মাস থেকেই বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, নিয়মে বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল লক্ষীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar)। তবে এই প্রকল্পে এবার আসছে বিরাট পরিবর্তন। রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে এই প্রকল্পে একাধিক নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে খবর, এই নিয়মগুলি না মানলে চলতি মাস থেকে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মহিলার আর্থিক সহায়তার জন্য এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্যই বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পের ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা পাচ্ছে ১৫০০ টাকা এবং এসসি/এসটি শ্রেণীর মহিলারা পাচ্ছে ১৭০০ টাকা করে, যে টাকা সরাসরি উপোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আসছে নতুন নিয়ম

সরকারি সূত্র মারফৎ খবর, বেশ কিছু ক্ষেত্রে নথিপত্রের ভুল বা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। কেউ কেউ নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। সেই পরিস্থিতিতে প্রকৃত উপভোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করতে প্রশাসন এখন নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। যে সমস্ত উপভোক্তার অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করানো নেই, তাদের ভাতা পাঠানো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত ব্যাঙ্কে গিয়ে আধার লিঙ্ক করে নেওয়া সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এদিকে আরও একটু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নিয়ম। এখন থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা শুধুমাত্র উপভোক্তাদের নিজের নামে থাকা একক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ঢুকবে। যৌথ অ্যাকাউন্ট বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হবে না। তাই প্রয়োজনে নিজের নামে আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে নেওয়ারই পরামর্শ দিয়েছে রাজ্যের প্রশাসন।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণাবর্তের জেরে বাড়ছে দুর্যোগ! শুক্রেও ঝড়-বৃষ্টির আভাস, আগামীকালের আবহাওয়া

এছাড়াও এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য বয়সের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে অবশ্যই ২৫ বছর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। কিন্তু বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে গেলে তিনি আর এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাবেন না। সেক্ষেত্রে তাঁকে বার্ধক্য ভাতা সুবিধা দেওয়া হবে। তাই যদি বয়সজনিত কারচুপি করা হয়, তাহলে এই প্রকল্পের ভাতা আর মিলবে না। প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দিলে বা নথিপত্রে অসঙ্গতি থাকলে অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যদি আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কেউ স্থায়ী সরকারি চাকরি করেন বা সরকারি পেনশন পান, সেক্ষেত্রে এই প্রকল্পের আওতায় ভাতা পাওয়া যাবে না।

Leave a Comment