গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজরায়েল আর আমেরিকার সংঘাত, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সংঘাত (2026 Afghanistan–Pakistan War)। এবার বিমান হামলার অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। সেই প্রেক্ষাপটে আফগান শাসকগোষ্ঠী তালিবান (Taliban) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা জানিয়েছে। তালিবানের এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি এই ধরনের হামলা চালাতে থাকে, তাহলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকেই এবার লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করা হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যে আরও তিক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কোন শহরগুলিকে নিশানা করার হুমকি?

এদিন তালিবানের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে হামলা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের বড় বড় শহরগুলিকে এবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ইসলামাবাদ, করাচি এবং কোয়েটা। এই শহরগুলিকে লক্ষ্য করেই হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

তালিবানদের দাবি, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সম্প্রতি আফগানিস্তানে বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কাবুল এবং কান্দাহার প্রদেশকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এমনকি আফগানিস্তানের আরও বেশ কিছু এলাকাতে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সেই সূত্রেই এবার হুঁশিয়ারি দিলেন তালিবান কর্মকর্তার মুখপাত্র হাজী জাহিদ। তিনি তালিবান নেতা হাজী ইউসুফের প্রতিনিধিত্ব করেন বলেই খবর। বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিবানা শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার ঘনিষ্ঠ বলেই আফগানিস্তানের উত্তর অঞ্চলে এই গোষ্ঠীর প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী।

আরও পড়ুন: দেশে আকাল, বিদেশে রপ্তানি! এলপিজি সংকট নিয়ে কেন্দ্রের থেকে জবাব চাইল হাইকোর্ট

এদিকে বলে রাখি, আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা তুঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ, জঙ্গি কার্যকলাপ আর পাল্টা অভিযানের অভিযোগ প্রায়শই সামনে আসে। বিশেষ করে ডুরান্ড লাইন ঘিরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আর সামরিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই হুঁশিয়ারি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে আরও ফাটল সৃষ্টি করছে। আর যদি এরকম ভাবে হামলা চলতে থাকে, তাহলে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

Leave a Comment