বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের আঁচে পুড়ছে বাংলাও (West Bengal)! রাজ্যজুড়ে দেখা দিয়েছে LPG র হাহাকার! এরই মাঝে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নিয়মে এবার থেকে শহরের ক্রেতারা 25 দিনের আগে দ্বিতীয় গ্যাস বুক করতে পারবেন না। গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে সেই পরিধিটা 45 দিনের। এমতবস্থায়, গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কার্যত কাড়াকাড়ি বেঁধে গিয়েছে বলা যায়! এদিকে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা সত্ত্বেও রান্নার গ্যাসের দাম 60 টাকা বেড়েছে। যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। এহেন আবহে, শহর কলকাতার নামকরা চিকিৎসক নারায়ন ব্যানার্জি (Narayan Banerjee), নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে রাজ্য এবং কেন্দ্রের রাজস্ব আয় সংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করেন। আর তাতেই বিপাকে পড়েছেন ডাক্তার বাবু!
বাংলার চিকিৎসককে তুলোধোনা তৃণমূল নেত্রীর!
একজন চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি নেট দুনিয়াতেও বেশ পরিচিত মুখ নারায়ণ ব্যানার্জি। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রায় ভেসে বেড়ায় তাঁর বিভিন্ন উপদেশমূলক ভিডিও। তবে মাঝেমধ্যে রাজনীতির রঙ গায়ে না মেখেও বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন তিনি। এমনকি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় শহর কলকাতার এই চিকিৎসককে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি তিনিই একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। যেই ছবিটির ওপরেই লেখা রয়েছে গ্যাস থেকে কার কোষাগারে কত ঢোকে… নিচে গ্যাস সিলিন্ডারের রাজস্ব সংক্রান্ত যে হিসেব দেখানো হয়েছে তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের কর হিসেবে 24 টাকা 75 পয়সা এবং রাজ্য সরকার অর্থাৎ তৃণমূল সরকারের কর বাবদ 291.36 টাকা দেখানো হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ট্রু।
গ্যাস সিলিন্ডার থেকে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব সংক্রান্ত হিসেব নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেই একপ্রকার বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসক। আসলে চিকিৎসক নারায়ণ ব্যানার্জির এমন পোস্ট নিয়ে তাঁকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন উত্তর ব্যারাকপুর মিউনিসিপ্যালিটির ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেত্রী শ্রীপর্ণা রায়। নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে চিকিৎসক নারায়ণ ব্যানার্জির করা পোষ্টের সাথেই গ্যাস সিলিন্ডার থেকে রাজ্য এবং কেন্দ্রের রাজস্ব আয়ের হিসাব সহ আরেকটি ছবি আপলোড করে চিকিৎসককে চাঁচাছোলা আক্রমণ করেছেন ওই তৃণমূল নেত্রী।
অবশ্যই পড়ুন: রেশনে অর্ধেক খরচে কিনতে পারবেন কেরোসিন! বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
উত্তর ব্যারাকপুরের ভাইস চেয়ারম্যান নিজের ফেসবুক পেজে দুটি ছবি পাশাপাশি রেখে তার ক্যাপশনে লিখেছেন, “নাড়ু ব্যানার্জী লজ্জা শরম থাকলে ডাক্তারের ডিগ্রীটা জ্বালিয়ে দিন …. যেই জিনিসটা জিএসটির আওতায় সেখানে আর কোনো ট্যাক্স লাগে না এটা নাড়ু ডাক্তারের নতুন বাবার সরকারের সিদ্ধান্ত। নাড়ু বিধায়ক হওয়ার লোভে নিজের বাবা মায়ের দেওয়া শিক্ষাটাও জলাঞ্জলি দিয়েছে। এলপিজি গ্যাস জিএসটির আওতায় এবং ৫ শতাংশ করের স্ল্যাবে অবস্থান করছে, এর থেকে ২.৫ শতাংশ কর রাজ্য সরকার এবং ২.৫ শতাংশ কর কেন্দ্রীয় সরকার পায় যার আর্থিক মুল্য মাত্র ২২.৩৬ টাকা। এর বাইরে রাজ্য সরকার এক পয়সা পায় না। উপরন্তু এই প্রাপ্য ট্যাক্সের টাকাও কেন্দ্রীয় সরকার নানা আছিলায় আটকে রাখে। তাই এই অশিক্ষিত নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী নাড়ু ডাক্তারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মিথ্যাচারের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মামলা করার অনুরোধ রাখছি।” তৃণমূল নেত্রীর এমন পোস্ট দেখামাত্রই কেউ কেউ ওই চিকিৎসককে কটাক্ষ করে লিখছেন, “গোমূত্রের পরিমাণটা বেশি হয়ে গিয়েছে বোধহয়!”