প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রবিবার নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিন ঘোষণার পরেই গতকাল, সোমবার বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেই তালিকায় নাম উঠে এল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি (Kalita Majhi)। ২০২১-এও প্রার্থী করেছিল বিজেপি কিন্তু পরাজিত হন তিনি। তবে এবারও তাঁর উপরেই ভরসা রেখে তপশিলি সংরক্ষিত এই আসনে কলিতাকে প্রার্থী করে রীতিমতো চমক দিল বিজেপি। কিন্তু এবার সেই প্রার্থীকে নিয়ে উঠল আরেক বিতর্ক।
প্রার্থী হয়েও ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন!
গুসকরা পুরসভার ১৯৫ নম্বর বুথের ভোটার কলিতা মাজি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে দেখা যাচ্ছে ওই বুথে ৩৯৭ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে কলিতা মাজির নাম। কিন্তু নামের উপর লেখা ‘আণ্ডার অ্যাডজুডিকেশন’। আর তাতেই তৃণমূল প্রশ্ন করছে কীভাবে অমীমাংসিত তালিকায় থাকা একজনকে বিজেপি প্রার্থী করল। এই নিয়েই এলাকায় শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও এই নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কলিতা মাজি। তিনি জানান, “আমার উপযুক্ত নথিপত্র আছে। সবকিছু দাখিল করেছি। এরপর কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে। তবে আমার বিশ্বাস যোগ্য ভোটার হিসাবে আমার যথাযথ নথিপত্র রয়েছে। আপাতত কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।”
ভোটে জেতার আশ্বাস কলিতা মাজির
জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা কলিতা মাজি। পেশায় তিনি একজন পরিচারিকা। পরিবারে রয়েছেন স্বামী ও এক ছেলে। ছেলে পার্থ এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভেদানন্দ থাণ্ডার জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৩৯২টি ভোট। বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি দ্বিতীয় হয়ে পেয়েছিলেন ৮৮ হাজার ৫৭৭টি ভোট। কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠছে প্রার্থী হয়েও তিনি কি এবার ভোটে লড়তে পারবেন কিনা। তবে তাঁর বিশ্বাস এবার তাঁরাই জিতবে।
আরও পড়ুন: এই কারণেই ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী! ফাঁস মেগা প্ল্যান
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই যে অভিযোগ করছিলাম, এখন তা কার্যত প্রমাণিত হল। বিজেপির সঙ্গে যে কমিশনের আঁতাত আছে এটা বোঝা গেল।” তবে এই বিষয়ে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “গোটা বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু এতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ যে ভুল তা প্রমাণিত হল। কমিশন জাত বা ধর্ম দেখে নয়, তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছে।”