সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা বা পেনশন (Pension) প্রাপ্তি আরও সহজ করার জন্য এবার বিরাট পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। বিশেষ করে জেনারেল ইন্সুরেন্স কাম সেভিংস স্কিম বা জিআইএসএস সংক্রান্ত তথ্যের অভাবে যাদের পেনশন ফাইল এতদিন ধরে আটকে ছিল, তাদের জন্য এবার বিরাট খুশির খবর শুনিয়েছে নবান্ন। গত ১৯ মার্চ অর্থ দফতর থেকে জারি করা একটি নতুন নির্দেশিকা সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ এবার আরও প্রশস্ত করল।
কেন জারি করা হল নতুন নির্দেশিকা?
আসলে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছিল যে, বহু সরকারি কর্মচারীর সার্ভিস বুকে জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের হিসেব সঠিক ভাবে আপডেট করা নেই। বিশেষ করে পুরনো নথি কিংবা তথ্য সময় মতো প্রশাসনিক দফতর থেকে না আসার কারণে পেনশনের কাজ থমকে যাচ্ছিল। আর অবসর গ্রহণের পর দিনের পর দিন প্রাপ্য টাকা পাওয়ার জন্য কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। কর্মীদের এই ভোগান্তি দূর করার জন্যই অর্থ দফতরের গ্রুপ-জে শাখা বিশেষ মেমোরেন্ডাম জারি করল।
মেমোরেন্ডাম নম্বর 061-F(J)/2025 অনুযায়ী, এবার পেনশন প্রক্রিয়ায় বাধা দূর করার জন্য সরকার বিশেষ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমত, এখন থেকে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কন্ট্রোলিং অথরিটি নিজেরাই জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের এন্ট্রি করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, তথ্য যাচাই বা তথ্য প্রত্যায়িত করার ক্ষমতা সরাসরি কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, ১৯৮৭ সালের পুরনো একটি আইনের সুত্র ধরে এবার রাজ্যপালের বিশেষ অনুমতিক্রমে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে বলে রাখি, এই নির্দেশিকাটি এইচআরএমএস ব্যবস্থা চালুর আগের সময়ের জন্যই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের আগে যদি কোনও কর্মচারী জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের তথ্য সার্ভিস বুকে নথিভুক্ত না থাকে, সেক্ষেত্রে তা এখন আরও সহজে আপডেট করা যাবে।
আরও পড়ুন: শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল
কীভাবে আপডেট করতে হবে তথ্য?
সার্ভিস বুকে এই পুরনো তথ্যগুলি নথিভুক্ত করার জন্য এবার নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই তথ্য এন্ট্রি করা যাবে। দ্বিতীয়ত, যথাযথভাবে সত্যায়িত সার্ভিস ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট থাকতে হবে এবং তৃতীয়ত, কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য অন্য যে কোনও বৈধ নথির ভিত্তিতে এই কাজ সম্পন্ন করা যাবে। এমনকি রাজ্যের সমস্ত ট্রেজারি অফিসার, জেলাসচিব, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের কাছে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। যার ফলে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী যারা অবসরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন বা যাদের পেনশনের কাজ আটকে রয়েছে, তারা সরাসরি উপকৃত হবে।