সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যত সময় এগোচ্ছে ভারতীয় রেলের (Indian Railways) ততই খোলনলচে বদলে যাচ্ছে। একের পর এক প্রিমিয়াম ট্রেনের উদ্বোধন থেকে শুরু করে আধুনিক করা হচ্ছে রেল স্টেশন, সেইসঙ্গে একাধিক নতুন রুট খুলে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে। এসকল কাজের ফলে নিঃসন্দেহে গত কয়েক বছরে রেলের আয় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এসবের মাঝেই রেলের এক বিরাট আয়ের উৎস সামনে এল, আর উৎস এবং টাকার পরিমাণ শুনলে আপনারও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। জানলে অবাক হবেন, রেলের নানা পুরনো সামগ্রী (Scrap) বিক্রি করে ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা আয় করেছে পূর্ব রেল (Eastern Railways)। শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু সূত্র মারফত এমনটাই শোনা যাচ্ছে।
ছাঁট বেচে কয়েকশো কোটি টাকা আয় করল রেল
জানা গিয়েছে, বাতিল কোচ, ইঞ্জিন থেকে শুরু করে রেললাইন, চাকা, স্লিপার সহ রেলের নানা পুরনো সামগ্রী বিক্রি করে শোরগোল ফেলে দেওয়ার মতো আয় করেছে পূর্ব রেল। চলতি অর্থবর্ষের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই খাতে প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা আয় করে তারা নতুন নজির গড়েছে। রেল সূত্রের খবর, গত বছরের তুলনায় এই আয় ৭.০৭ শতাংশ বেশি। সারা ভারতের নিরিখে ছাঁট বিক্রির আয় তালিকায় পূর্ব রেল প্রথম তিনের মধ্যে রয়েছে।
এক রিপোর্ট শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই এই খাতে আয় হয়েছে ৭০.২৩ কোটি টাকা, যা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রেলের বাতিল সামগ্রী বিক্রি কয়েক বছরে নাকি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইয়ার্ড পরিষ্কার রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেল কর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা বাতিল যন্ত্রাংশ জায়গা দখল করে, চুরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং খোলা পরিবেশে পড়ে থেকে নষ্ট হয়। ফলে আর্থিক ক্ষতিও বাড়ে। এসব কারণেই দ্রুত ই-নিলামের মাধ্যমে সেগুলি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মোদী ও রেখা গুপ্তাকে প্রাণে মারার হুমকি, দিল্লিতে ই-মেল ঘিরে চাঞ্চল্য
বিক্রির তালিকায় কী কী রয়েছে?
তালিকায় রয়েছে মোট, ৭৬টি আইসিএফ, ইএমইউ ও মেমু কোচ (আয়: ৪৭ কোটি টাকা), ১৫টি বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ, ১৭টি ডিজেল ইঞ্জিন, ৮৭৪টি ওয়াগন, ৩৩,৯৮৬ টন রেললাইন, ৫৮,৯১০ টন লোহার ছাঁট, ৩,৮৫৮ টন অন্যান্য সামগ্রী। এছাড়াও, পানাগড়ে বহু পুরনো একটি পরিত্যক্ত রেল সাইডিংয়ের জমি ব্যবহার করে অতিরিক্ত আয় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই খাতে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৫২৯.৭১ কোটি টাকা। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো বিক্রয় প্রক্রিয়াটি অনলাইন ই-অকশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।