সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তফসিলি জাতি (Scheduled Castes) সংক্রান্ত সংরক্ষণের অধিকার এবং স্বীকৃতি নিয়ে এবার বিরাট রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র হিন্দু, শিখ আর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের তফসিলি জাতিভুক্ত হিসেবে দাবি করতে পারবে। যদি কেউ এই ধর্মগুলি ছেড়ে অন্য কোনও ধর্ম গ্রহণ করে বা ধর্মান্তরিত হয়, তিনি আর কোনও ভাবেই তফসিলি জাতির সুবিধা পাবেন না।
কোন মামলায় এই মন্তব্য?
আসলে অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি কে মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জরিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ। ওই মামলার মূলে ছিল এক ব্যক্তি, যিনি জন্মগতভাবে তফসিলি জাতিভুক্ত ছিলেন। কিন্তু হ্যাঁ, পরবর্তীকালে তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। আর ওই ব্যক্তিকে মারধরের একটি ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও জনজাতি আইন বা এসসি/ এসটি অ্যাক্টের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
তবে অভিযুক্তরা অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টে আবেদন করেছিল যে, আক্রান্ত ব্যক্তি যেহেতু খ্রিস্টান, তাই তাঁর ক্ষেত্রে এই বিশেষ আইন কার্যকর হতে পারে না। এমনকি হাইকোর্ট সেই দাবি মেনে নিয়ে এফআইআর খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল যে, খ্রিস্টধর্মে কোনও রকম বর্ণপ্রথা নেই। তাই সেখানে তফসিলি জাতির কোনও অস্তিত্বই থাকতে পারে না। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই আক্রান্ত ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
আরও পড়ুন: প্রেমের টানাপোড়েনেই খুন? পার্লারে ঢুকে মহিলাকে কুপিয়ে আত্মঘাতী যুবক, চাঞ্চল্য গড়িয়ায়
কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখে। শীর্ষ আদালতের প্রধান পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী তফসিলি জাতির সুবিধা শুধুমাত্র হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যেই প্রযোজ্য। খ্রিস্টান বা ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে নয়। যদি কেউ নিজের ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান বা অন্য কোনও ধর্ম গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি পূর্বের তফসিলি জাতির স্বীকৃতি পাবেন না। যেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তি মারধরের ঘটনার সময় খ্রিস্টান ধর্মালম্বী ছিলেন, তাই তফসিলি জাতি বা জনজাতি আইনের আওতায় ওই অভিযুক্তদেরকে শাস্তি দেওয়া আইনত উচিত নয়।