প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এলপিজি সঙ্কটের (LPG Shortage) জেরে মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছে দেশবাসী। আর এই গ্যাস, জ্বালানি সংকটের মাঝেই ফের দু’টি এলিপিজি সিলিন্ডার বুক (LPG Gas Booking Rules) করার সময় ব্যবধান সংক্রান্ত নিয়মে রদবদল করা হল। বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সময়সীমা বৃদ্ধি করায় সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেল প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকেরা। জানা গিয়েছে, বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। মাথায় হাত গ্রাহকদের।
গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মে বড় বদল
গ্যাস সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে যাঁদের ডবল সিলিন্ডার রয়েছে, তাঁদের সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩৫ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার বুক করার পরে অন্তত ৩৫ দিন পর দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে। তবে সিঙ্গল সিলিন্ডার বিশিষ্ট গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা ২৫ দিনই করা হয়েছে, নিয়মে কোনো বদল আনা হচ্ছে না। অর্থাৎ একটি বুক করার ২৫ দিনের মাথায় আবার পরেরটি বুক করতে পারবেন। ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে গ্রাম এবং শহরে একই নিয়ম প্রযোজ্য। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ। তাঁদের গ্যাস বুকিং নিয়মে আসল বড় বদল।
ধাক্কা খেলেন উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকেরাও
সূত্রের খবর, এবার থেকে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকেরা একটি সিলিন্ডার বুক করার ৪৫ দিনের মাথায় পরেরটি বুক করতে পারবেন। কিন্তু তার আগে তাঁরা নতুন সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন না। আগে উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের এই সময়সীমা ২৫ দিন ছিল। অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার বুক করার পরে ২৫ দিন কাটলে পরবর্তীটি বুক করতে পারতেন তাঁরা। কিন্তু এবার সেই সময়সীমা বাড়ায় বড় কোপ পড়ল তাঁদের জীবনযাত্রায়। তবে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনায় ৫ কেজি এবং ১০ কেজির সিলিন্ডারের বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সময়সীমা একই রয়েছে। একটি বুক করার ১৬ দিন এবং ১০ কেজির সিলিন্ডারের বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ১৮ দিনের মাথায় পরবর্তীটি বুক করা যাবে।
আরও পড়ুন: রেল চত্বর নোংরা করে গ্রেপ্তার লাখ লাখ মানুষ, কোটি টাকা জরিমানা তুলল পূর্ব রেল
প্রসঙ্গত, চলতি মাস থেকেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় ৬০ টাকা বেড়ে LPG গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে ৯৩৯ টাকায়। তবে শুধু দাম বৃদ্ধি নয়, দেশের নানা প্রান্তে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও সোমবার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে লোকসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত প্রয়োজনের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে। দেশে গৃহস্থলীর প্রয়োজনীয় গ্যাস যাতে মেলে, সেই কারণে পদক্ষেপও করেছে সরকার। এ ছাড়াও পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টাও করা হচ্ছে সরকারের তরফে।