সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ (Bengal DA Issue) নিয়ে বাংলায় অচলাবস্থা জারি রয়েছে। কবে এই সমস্যার সমাধান হবে, সেই উত্তর জানা নেই। সুপ্রিম কোর্টের রায়দান, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৪ শতাংশ DA বৃদ্ধি, বকেয়া মেটানোর ঘোষণার পরেও সমস্যা মেটেনি। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা চলতি মার্চ মাসেই দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে মাস শেষ হতে চললেও সরকারি কর্মীরা কোনও টাকা পাননি বলে অভিযোগ। ফলে এবার নতুন করে আন্দোলনের ঘোষণা করলেন সরকারি কর্মীরা।
ডিএ নিয়ে ফের লড়াইয়ের ঘোষণা
বুধবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। তিনি লেখেন, নতুন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হোন। আবার রাস্তায় নামতে হবে।’ শেষে লেখেন, বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা। যদিও কবে, কোথায় আন্দোলন হবে, কারা থাকবেন সে বিষয়ে খোলসা করেননি তিনি। তবে আন্দোলন যে একটা হবে সেটা বোঝাই যাচ্ছে। পোস্টের কমেন্টে অনেকে অনেক কথা লিখেছেন। একজন লিখেছেন, ‘লড়াই ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই, – হকের দাবি আদায় করার জন্য।’ অন্য একজন লিখেছেন, শেষ দেখে ছাড়বো…ডাকের অপেক্ষায় আছি…
আরও পড়ুনঃ ধেয়ে আসছে অতি শক্তিশালী স্কোয়াল ফ্রন্ট! শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখী, ভারী বর্ষণ দক্ষিণবঙ্গে
অন্য আরেজন ভোটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ভোটের আগেই বনধ ডাকুন অবশ্যই পালন করব … এছাড়া কোনো রাস্তা নেই।’ অর্থাৎ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে ডিএ ইস্যুতে একটা বড়সড় আন্দোলন যে হবে তা বলাই বাহুল্য। একজন লিখেছেন, ‘তৈরি আমরা, নির্দেশ পেলে পথে নামবো।’ আরেকজন গদি নড়ানোর কথা বলেছেন। লিখেছেন, ‘এটা মোক্ষম সময় গদি নড়ানোর । এ থাকলে আমরা কোনো বকেয়া পাবোনা। আমাদের অস্ত্র আন্দোলন ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার।’
বড় ঘোষণা সরকারের
সরকারের অর্থ দফতরের তরফে ইতিমধ্যে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল অবধি বকেয়া ডিএ দুই কিস্তিতে মেটানো হবে। একটা চলতি মার্চ মাসে অন্যটি সেপ্টেম্বর মাসে। বাকি টাকা কবে কীভাবে মেটানো হবে তা পরবর্তীকালে জানানো হবে। অর্থাৎ মাত্র ৪৮ মাসের টাকা মেটানোর ঘোষণা করেছে সরকার। তাও আবার সকলে নিজেদের ব্যাঙ্কে পাবেন না কিন্তু। সরকার জানিয়েছে, গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’-এর বকেয়া তাদের জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে, আর গ্রুপ ‘ডি’-এর কর্মচারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা সরাসরি ট্রান্সফার করা হবে।