কেতুগ্রামে স্বাস্থ্যকর্মীর কোয়ার্টারের ছাদ ভেঙে প্রাণ গেল ৪ মাসের শিশুর

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সরকারি আবাসনে! ছাদের চাঙর ভেঙে মৃত্যু স্বাস্থ্য কর্মীর মাত্র চার মাস বয়সী শিশুকন্যার। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম(Ketugram) ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি কোয়ার্টারে। কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। এমতাবস্থায় স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি কোয়ার্টারে ছাদের বড় চাঙর ভেঙে পড়ে স্বাস্থ্য কর্মীর মাত্র চার মাস বয়সী এক ঘুমন্ত শিশুকন্যার উপর। পরিবারের বাকিরা অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও শিশুটি গুরুতরভাবে জখম হয়। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পথেই মৃত্যু হয় শিশুটির। আচমকা এই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পরে গোটা পরিবার। এমতাবস্থায় প্রশ্নের মুখে পড়ে স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকা জুড়ে।

বেহাল দশা কোয়ার্টারটির

জানা গিয়েছে, মৃত শিশুটির নাম প্রিয়দর্শী বেসরা। তাঁর মা শিবানী শোরেন কাটোয়া পুরসভার অধীনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজ করেন। বাবা সানু বেসরা কেতুগ্রামের সীতাহাটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট। পেশাগত কারণে তাঁরা কেতুগ্রাম ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি কোয়ার্টারে থাকতেন। পরিবারের অভিযোগ ছিল যে কোয়ার্টারটির বেহাল দশা জানিয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে মেরামতের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই শিশুর পরিবার এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি স্বাস্থ্য দফতরের গাফিলতিকে দায়ী করেছে।

প্রশ্নের মুখে পড়ল প্রশাসন

শুধু একটি কোয়ার্টারই নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্যান্য আবাসনগুলির অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয় বলে অনেকেই অভিযোগ জানিয়েছেন। পুরনো এই কোয়ার্টারগুলিতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু কোনো রকম কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। এ বিষয়ে কাটোয়া মহকুমার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌভিক আলম জানিয়েছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আরও পড়ুন: ‘এবার এখনও পা ভাঙেনি’ ভোটের আগে মমতাকে নিশানা শাহের

উল্লেখ্য, সামনেই ভোট, তাই এলাকায় এলাকায় প্রার্থীরা ভোট চাইতে সাধারণের দরজায় দরজায় ঘুরছে। সেক্ষেত্রে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে খোদ স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষ কীভাবে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন? আর এই প্রশ্নে দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment