প্রচার ছেড়ে সিজিও কমপ্লেক্সে তৃণমূল প্রার্থী, দেবাশিস কুমারকে তলব ED-র

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), সেই দিক থেকে বলতে গেলে হাতে সময় খুব কম। তাই তড়িঘড়ি জেলায় জেলায় ভোটের প্রচার করতে বেরিয়ে পড়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এমতাবস্থায় তৃণমূলের (Trinamool Congress) হেভিওয়েট প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে ( Debasish Kumar) তলব করল ED। ভোটের প্রচার ছেড়ে সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন এই দাপুটে নেতা। অভিযোগ বেআইনি নির্মাণ এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র মিলতেই এই তলব।

দেবাশিস কুমারকে তলব করল ED

রিপোর্ট মোতাবেক, গত শনিবার দক্ষিণ কলকাতার একটি নির্মাণ সংস্থার অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED। ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, পুরসভার সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জমি দখল করা ও নির্মাণ প্রকল্প করা হয়েছে। ব্যবসায়ী অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছিল, আর তখনই নাম উঠে আসে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারের নাম। তথ্যে এও জানা গিয়েছে যে দেবাশিস কুমারের এলাকা রাসবিহারীতেও নানা বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। আর সেই বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ আসার পরই তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দেবাশিস কুমারকে আজই তলব করেছে।

প্রচার ছেড়ে ED অফিসে বিধায়ক

ED সূত্রে জানানো হয়েছে, নোটিস অনুযায়ী, আজ, সোমবার, সকালে সল্টলেকের CGO কমপ্লেক্সে হাজির হয়েছেন রাসবিহারীর বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমার। ইতিমধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত নানা তথ্যকে তুলে ধরে প্রশ্ন করা হচ্ছে দেবাশীষকে। এছাড়াও তাঁর বয়ান রেকর্ড করারও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন দেবাশিস কুমার, তাই অগত্যা প্রচার ফেলে তাঁকে আসতে হয়েছে ED অফিসে। মূলত ইডি আধিকারিকরা জানতে চাইছেন, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি কী ছিল? প্রতারণা মামলার টাকা কি অন্য কোনোভাবে ঘুরপথে কোনো প্রভাবশালী মহলে পৌঁছেছে? ওই ব্যবসায়ীকে কি অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল?

ক্ষুব্ধ তৃণমূল

ভোটের মুখে হেভিওয়েট প্রার্থীর ED তলব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশতই দেবাশিসকে তলব করা হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, “ এসব হচ্ছে বিজেপির অসহায়তার প্রমাণ। আসন্ন নির্বাচনে জানে হেরে যাবে, তাই তার আগে শেষ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচনের আগে ইডি-সিবিআই- কমিশন সবাইকে কাজে লাগাতে চাইছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আমাদের প্রতি বিশ্বাস অটুট থাকবে।” অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণেই এই সব তদন্ত চলছে, সেটা মানুষ জানেন, কোর্টও জানে। যদি কিছু বলার থাকে, তাহলে আদালতে গিয়ে বলুক।”

আরও পড়ুন: বিকেলের পরেই এই জেলাগুলোর তুমুল দুর্যোগ, কেমন থাকবে আগামীকালের আবহাওয়া?

প্রসঙ্গত, সল্টলেকে ED-র CGO কমপ্লেক্সে প্রবেশ করার সময় বা জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে দেবাশিস কুমারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শেষ আপডেট অনুযায়ী ED-ও কোনো রকম তথ্য প্রকাশ্যে আনেনি এখনও পর্যন্ত। তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে ভোট প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই এই আইনি জটিলতা রাসবিহারী কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াইয়ে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।

Leave a Comment