বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জ্বালানি আমদানি-রপ্তানি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তেহরান নরম হলে একে একে বিভিন্ন দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার করছে। ইতিমধ্যেই হরমুজ পার করে দেশে ফিরেছে ভারতের একাধিক LPG ও অন্যান্য জ্বালানীবাহী জাহাজ। সম্প্রতি পাকিস্তানের 20টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করার অনুমতি দিয়েছে তেহরান। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, মোট 18টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম দিকে নোঙর করে আছে। জাহাজগুলিকে কি তাহলে আটকে রেখেছে ইরান? উঠছে প্রশ্ন।
ভারতের 18টি জাহাজকে আটকে রেখেছে ইরান?
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বন্দর, নৌ পরিবহন এবং জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছিলেন, “এই মুহূর্তে 10টি বিদেশি পতাকা বাহি জাহাজের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম গ্যাস, চারটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ এবং তিনটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী জাহাজ হরমুজে আটকে রয়েছে।”
এদিন সিনহা আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে ভারতীয় পতাকাবাহী 18টি জাহাজ। যার মধ্যে তিনটি LPG ট্যাঙ্কার, একটি LNG ক্যারিয়ার এবং চারটি অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কার আছে।” তাহলে কি ভারতের এই জাহাজগুলিকে আটকে রাখা হয়েছে? এদিন দেশের জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব বলেন, “ভারতীয় জাহাজগুলি এই মুহূর্তে খালি। সেগুলিতে LPG ও জ্বালানি তেল ভরা হচ্ছে। ওই জাহাজগুলি মিলিয়ে মোট 485 জন নাবিক হরমুজে আটকে রয়েছেন।”
অবশ্যই পড়ুন: সর্বস্ব উজাড় করেও হল না টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা! অবসর নিচ্ছেন মহম্মদ শামি? জানালেন নিজেই
এদিন তিনি একেবারে খোলাখুলি জানান, ভারত সরকারের প্রধান লক্ষ্য হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলিকে দ্রুত দেশে নিয়ে আসা। যত দ্রুত সম্ভব ভারতের পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী পার করে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। বলে রাখি, ইরানের তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও রকম শুল্ক ছাড়াই হরমুজ প্রণালী পার করতে পারবে ভারতের জাহাজ।