প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে একের পর এক তরজা হয়েই চলেছে। আর এই তর্ক বিতর্কের মধ্যেই আজ, বুধবার ফের SIR মামলার শুনানি হল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। জানা গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে SIR মামলার শুনানি (SIR Hearing) হয়েছিল। আর সেখানেই আদালতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে যথাযথ ভাবে নথির সত্যতা যাচাই না করে, কোনও নতুন ডকুমেন্ট যেন গ্রহণ না করা হয়।
৭ এপ্রিলের মধ্যে SIR জট কাটবে
শুনানিপর্বে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মিশ্র বলেন, “কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গতকাল চিঠি লিখেছেন। আমরা খুবই খুশি এবং সন্তুষ্ট, ইতিমধ্যেই ৪৭ লক্ষ লোকের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার থেকে ২ লক্ষ লোকের নিষ্পত্তি হচ্ছে।” এছাড়াও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, “আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে সকলের যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে। এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে কাজ শুরু হবে ট্রাইবুনালের। তাঁদের কাজের সুবিধার জন্য পুরো পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এমনকি সদস্যদের জন্য সাম্মানিক, যাতায়াত-সহ অন্যান্য সুবিধা সব ব্যবস্থা করতে হবে দ্রুত।”
কমিশনের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন রাজ্যের
রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ট্রাইবুনালের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। আসলে এই বিচারকদের এমন একটি কাজ করতে বলা হয়েছে, যা তাঁরা আগে করেননি। তবে তাঁদের নিরপেক্ষতা বা পক্ষপাতহীনতা নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই।” এরপরেই কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডুকে উদ্দেশ করে বিচারপতি বলেন, “আপনাদের সফ্টওয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আপনারা অ্যাপিলেট অথরিটির কাছে সব নথি পেশ করুন। কোনও বিবাদ হলে তা মেটানো হবে যাবতীয় নথি দেখেই।”
ফর্ম ৬ নিয়ে কী বললেন বিচারপতি?
বিচারপতি বাগচী এদিন জানান, “যদি কোনও প্রার্থীর নাম বাদ পড়ে, তা হলে আলাদা করে আবেদন করতে পারবেন। সেখানে আবেদনকারীরা প্রয়োজনে নতুন নথিপত্র পেশ করতে পারবেন।” তবে নথির সত্যতা যাচাই না করে নতুন নথি গ্রহণ করা যাবে না বলেও জানিয়েছে আদালত। পাশাপাশি ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “কেউ যদি এখন তালিকায় থাকেন, কিন্তু পরে বাদ পড়েন, সে ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তাই মনে রাখতে হবে—কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না-পারেন, তার মানে এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন: বাজেটে ঘোষণা হলেও ৪% DA নিয়ে মুখে কুলুপ রাজ্য সরকারের, ক্ষোভে ফুঁসছে কর্মীরা
পরবর্তী শুনানি কবে?
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মিশ্র মামলার পরবর্তী শুনানি প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব আপত্তির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তাই আমরা মামলাটি ৭ এপ্রিল বিকেল ৪টায় রাখছি।” কমিশনের আইনজীবী তখন বলেন, “আইন অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত যাঁরা ভোটার তালিকায় আসবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তাই বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি ৭ তারিখের পরিবর্তে ৬ তারিখ রাত ১২টার মধ্যে করা হোক। শুনানিও ৬ তারিখ রাখা হোক।” এরপরই আদালত সিদ্ধান্ত নেয় যে পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ এপ্রিল, সোমবার বিকেল ৪টেয় হবে।