বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: উত্তর সিকিমে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল সদ্য নির্মিত সেতুর একাংশ (Collapse In North Sikkim)। প্রবল ধসে এবার লাচেনের সঙ্গে সংযোগ এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ দুর্ঘটনার জের আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। এদিকে রাস্তা বন্ধ করে চলছে উদ্ধার কাজ। জানা গিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ক্রমাগত ঝড়-বৃষ্টির কারণেই নামল ধস। তাছাড়াও এই মুহূর্তে সিকিমে ঘন ঘন হচ্ছে তুষারপাত। এক কথায় আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণেই দুর্যোগে উত্তরবঙ্গ সহ সিকিমের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
ঠিক কোন কারণে ভেঙে পড়ল সদ্য নির্মিত সেতু?
সম্প্রতি সিকিমের লাচেনে তাড়ামচু অঞ্চলে এক বিরাট সেতু নির্মাণ করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতেই উদ্বোধন হয় সেতুটি। এই এক সেতু দিয়েই উত্তরবঙ্গ তথা সিকিমের পার্বত্য এলাকায় পৌঁছে যেতে পারছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যাতায়াত হয়েছিল অনেকটাই সহজ। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ল সেতুর একাংশ। যার কারণে এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য লাচেনের একাংশের সাথে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে ঠিক কেন ভেঙে পড়ল সেতুটি?
সম্প্রতি নির্মিত নতুন সেতুটির একাংশ ভেঙে পড়ার কারণ ভূমি ধস নাকি অন্য কিছু তা জানা যায়নি। তবে কেউ কেউ বলছেন, একটানা বৃষ্টি, ধস অর্থাৎ দুর্যোগের কারণেই ভেঙে পড়েছে সেতুটি। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে কম করে শতাধিক পর্যটক ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আটকে রয়েছেন। একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতার সাথে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ভারতীয় ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিশ, বর্ডার রেড অর্গানাইজেশনের আধিকারিক থেকে শুরু করে ভারতীয় সেনার জাওয়ানরাও।
অবশ্যই পড়ুন: আহমদপুর থেকে কলকাতার সরাসরি ট্রেন? বড় আশ্বাস দিলেন হাওড়ার ডিআরএম
বিবৃতি দিয়েছে সিকিম প্রশাসন
আজ অর্থাৎ রবিবার সিকিমের সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনার পরপরই বিবৃতি দিয়েছে সিকিম প্রশাসন। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব দুর্যোগে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আপাতত সমস্ত পর্যটককে গ্যাংটকের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন।। সিকিম প্রশাসনের তরফে এও জানানো হয়েছে, নবনির্মিত সেতুটির একাংশ ধসে গেলেও বেশিরভাগ অংশে তেমন একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। একই সাথে এমন দুর্ঘটনার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা আসল কারণ খুঁজে বের করারও আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সরকারি আধিকারিকরা।