প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), এদিকে SIR নিয়ে এখনও সরগরম পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে। আর তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল মোথাবাড়ির কাণ্ড (Mothabari Incident)। জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর হামলার অভিযোগে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে এখন এই ঘটনা বেশ চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে NIA-র তদন্তের গতি, অন্যদিকে প্রধান বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে বঙ্গের রাজনীতি এখন খবরের শিরোনামে। এমতাবস্থায় আজ NIA-র তদন্তের রিপোর্ট (NIA Report) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যাচ্ছেন আইজি সোনিয়া সিং।
খবরের শিরোনামে মোথাবাড়ি!
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে বিডিও অফিস থেকে কোনোরকমে বেরোনোর পরও রাস্তায় হামলার মুখে পড়ে বিচারকদের গাড়ি। সেই গাড়িতে এক মহিলা বিচারকও ছিলেন। ইটের আঘাতে ভেঙে যায় কনভয়ের একটি গাড়ির কাচও। একাধিক ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই গাড়ির চালক মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ইতিমধ্যেই মোথাবাড়ির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। আর এই আবহে আজ সুপ্রিম কোর্টে NIA-র রিপোর্ট পেশ হতে চলেছে।
NIA-র রিপোর্ট পেশ হবে সুপ্রিম কোর্টে
রিপোর্ট মোতাবেক, ইতিমধ্যেই কলকাতা দফতর থেকে ২৫ পাতার NIA-র রিপোর্ট নিয়ে সংস্থার আইজি সোনিয়া সিং দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজই সুপ্রিম কোর্টে NIA-র রিপোর্ট জমা পড়বে। জানা গিয়েছে, ওই রিপোর্টে আক্রান্ত বিচারকদের বক্তব্য পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি মোথাবাড়ি অঞ্চলের ২২ জন বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) জবানবন্দি গুরুত্ব সহকারে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার আগে-পরে ঠিক কী ঘটেছিল, প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এই নথিতে।
আরও পড়ুন: IPL নয়, সাট্টাবাজারে এখন ভোটের ঝড়! কারা গড়বে সরকার? জানুন ট্রেন্ড
মোথাবাড়ির ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে আগেই রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। রাজ্যের মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও জেলার এসপি, ডিএম-দের শোকজ করা হয়েছিল। এজলাসে বসে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, “যদি রাজ্যের বিচার বিভাগীয় অফিসাররাই নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিচার ব্যবস্থার ওপর এই ধরনের আক্রমণ কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না। দরকার পড়লে আরও নামানো হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এখন দেখার আজ NIA-র রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর প্রধান বিচারপতি কী পর্যবেক্ষণ দেন।