সম্পন্ন দীর্ঘতম মহাকাশযাত্রা, চাঁদ দেখে পৃথিবীতে ফিরলেন নাসার ৪ মহাকাশচারী

সহেলি মিত্র, কলকাতা: আবারও এক নতুন ইতিহাস রচনা করল NASA। এমনিতেই ৫০ বছরেরও বেশি অপেক্ষার পর মানুষ আবারও চাঁদে পৌঁছেছে এবং নিরাপদে ফিরে এসেছে। নাসার আর্টেমিস ২ (Artemis 2) মিশনের  চারজন মহাকাশচারী কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসন রেকর্ড পরিমাণ ৪০৬,৭৭৮ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। এটিই এখনও পর্যন্ত মানুষের দীর্ঘতম মহাকাশযাত্রা বলে দাবি করা হচ্ছে।

ইতিহাস গড়ল নাসা NASA

সূত্রের খবর, ওরিয়ন মহাকাশযানের প্রত্যাবর্তন ছিল  রোমাঞ্চকর। ক্যাপসুলটি যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণের ফলে মহাকাশযানটির চারপাশে একটি আগুনের গোলা তৈরি হয় এবং তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ওরিয়ন প্রচণ্ড তাপ ও ​​চাপ সহ্য করে নিজের দায়িত্বে অবিচল থাকে। যাইহোক, এরপর সুরক্ষিতভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর একটি বিশাল প্যারাসুট খুলে যায় এবং মহাকাশযানটি নিরাপদে জলে অবতরণ করে।

আরও পড়ুনঃ দুর্ঘটনায় হারান দুই পা, এক হাত! হুইলচেয়ারে বসে ৩ আঙুলে লিখে UPSC ক্র্যাক করে IAS

মার্কিন নৌবাহিনী ও নাসার উদ্ধারকারী দল অবিলম্বে ক্যাপসুলটি সুরক্ষিত করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ময়দানে। এরপর চারজন মহাকাশচারী বিজয়ের হাসি নিয়ে বেরিয়ে আসেন, যা এই ১০ দিনের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার সাফল্যকে চিহ্নিত করে।

অভিযানটির বিশেষত্ব কী ছিল?

আর্টেমিস II হলো চাঁদে ফিরে যাওয়ার জন্য নাসার উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়। আর্টেমিস I ছিল প্রথম মনুষ্যবিহীন অভিযান, কিন্তু এইবার মানুষ চাঁদকে প্রদক্ষিণ করেছিল। এই অভিযানের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল গভীর মহাকাশে জীবনধারণ, দিকনির্দেশনা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষা করা মহাকাশচারীরা চন্দ্রপৃষ্ঠ এবং দিগন্তের উপরে উদীয়মান পৃথিবীর কিছু অত্যাশ্চর্য ছবি তুলেছেন, যা ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিযানের সাফল্য আর্টেমিস III-এর পথ প্রশস্ত করেছে, যার লক্ষ্য পাঁচ দশকে প্রথমবারের মতো চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষ অবতরণ করানো।

 

Leave a Comment