স্কুলের খাবারে বিষ! ওড়িশায় মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ শতাধিক, মৃত্যু এক ছাত্রীর

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: স্কুলের মিড ডে মিলে (Mid Day Meal) বিষক্রিয়া! ওড়িশার (Odisa) একটি আদিবাসী স্কুলে খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল শতাধিক পড়ুয়া। জানা গিয়েছে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে এক ছাত্রীর। তবে স্কুলের অভিযোগ ছাত্র ছাত্রীরা যেই খাবার খেয়েছে তা মিড ডে মিলের অন্তর্ভু্ক্ত ছিল না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

জানা গিয়েছে, গত রবিবার, সকালে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার কাকাবন্ধা আশ্রম স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এমন কিছু খাবার খায়, যা মিড-ডে মিলের মেনুতে ছিল না। অভিভাবকদের দাবি, ওইদিন সকালে শিশুদের পাখালা (পান্তা ভাত), আলু ভর্তা এবং আমের চাটনি দেওয়া হয়েছিল। আর এই খাবার খাওয়ার পরই শতাধিক পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। একে একে অনেকের বমি, পেটের সমস্যা এবং শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়ে গিয়েছিল। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সঙ্গে সঙ্গে। এদিকে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ৬৭ জনকে বারিপদার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল এক ছাত্রী

রিপোর্ট মোতাবেক, স্কুলে বিষক্রিয়া জনিত খাবার খাওয়ার ঘটনায় গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাকে আগেই ICU-তে ভর্তি করানো হয়েছিল, কিন্তু সব চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হয়নি। শোকস্তব্ধ ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে ৬৬ জন চিকিৎসাধীন এবং আরও ৪১ জন স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি রয়েছে। এদিকে ময়ূরভঞ্জ জেলার জেলা শাসক হেমন্ত কান্ত জানিয়েছেন, আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। কীভাবে অনুমোদিত মেনুর বাইরে খাবার পরিবেশন করা হল এবং তাতে কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পয়লা বৈশাখে ৩০০ টাকা ছুঁল চিকেনের দাম, কাঁদাচ্ছে মটনও

ওড়িশার এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি ইতিমধ্যেই পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই একটি দল স্কুলে এবং অন্যটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নজরদারি চালাচ্ছে। এর আগেও মিড ডে মিল নিয়ে একাধিক বিতর্ক উঠে এসেছিল। কখনও খাবারে টিকটিকি, আরশোলা তো কখনও আবার খাবারে সাপের খোলসও পাওয়া গিয়েছিল। আর সেই বিষক্রিয়ার জেরে অনেক ছাত্র ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ফের আরও একবার এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে স্কুলগুলিতে খাদ্য নিরাপত্তা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উপর। আরও কড়া নজরদারির দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Leave a Comment