বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মিলল না স্বস্তি

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলার ভোটের ফলপ্রকাশ আজ (West Bengal Election 2026)। ট্রেন্ড যা বলছে তাতে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক অশান্তির রুখতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছিল। যদিও সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় কোনও রকম হস্তক্ষেপ করল না। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে কোনও রকম নির্দেশ দেওয়া হবে না, বরং মামলাকারীকে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানাতে হবে।

কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

আসলে সনাতন সংস্থা নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আইনজীবী ভি গিরি আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী অশান্তির উদাহরণ টেনে এনে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে একটি মনিটরি কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই মুহূর্তে কেন্দ্রের কোনও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। আবার অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, ভোট প্রক্রিয়া মিটে গেলে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে কোনও কিছু করার থাকে না।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের আগেই বড়সড় পদক্ষেপ নিয়ে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার আশঙ্কা মাথায় রেখে আগামী ৬ মাস পর্যন্ত ৫০০ কোম্পানি আধা সেনা মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি চালানো হবে সিআরপিএফ জওয়ানদের দ্বারা।

কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন?

না উল্লেখ করলেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কলকাতায় সর্বোচ্চ ৪০টি কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে। ব্যারাকপুরে থাকবে ২৮ কোম্পানি আধা সেনাবাহিনী, বীরভূম ও ডায়মন্ড হারবারে ২০ কোম্পানির বেশি জওয়ান থাকবে। কালিম্পং-এ সবথেকে কম মাত্র ১টি কোম্পানি বাহিনী থাকবে। আর বনগাঁ ও জঙ্গিপুরে ৫ কোম্পানি রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঝালমুড়ি নিয়ে শাড়ি পরে মমতার মিমিক্রি, সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল ছবি

কমিশনের গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, ফল প্রকাশের পর বিশেষ করে কলকাতা সংলগ্ন এলাকা এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত জেলাগুলোতেই অশান্তি ছড়াতে পারে। আর সেই আশঙ্কা থেকে এবার নজিরবিহীনভাবে নির্বাচনের ছয় মাস পর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বাংলায় রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Comment