টাকা দাও বিদ্যুৎ নাও, বাড়িতে লাগানোর আগে জেনে নিন স্মার্ট মিটারের সুবিধা-অসুবিধা

অনন্যা সরকার, কলকাতাঃ প্রযুক্তির উন্নতি আমাদের জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু বদল নিয়ে হাজির হয়। বর্তমান সময়ে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থারও দ্রুত আধুনিকীকরণ হচ্ছে। তার একটি অন্যতম নিদর্শন হল স্মার্ট মিটার (Smart Meter)। চিরাচরিত মিটারের জায়গা এখন দখল করে নিচ্ছে নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তৈরি স্মার্ট মিটার। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে রিয়েল টাইম অর্থাৎ প্রতি মুহূর্তের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসেব রাখে এই মিটার। আর সমস্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠিয়ে দেয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার দপ্তরে। তবে ভালো দিক যেমন রয়েছে, তেমন কিছু সমস্যাও রয়েছে এই ব্যবস্থায়। চলুন জেনে নিই স্মার্ট মিটারের খুঁটিনাটি। 

কেমন করে কাজ করে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার 

বিদ্যুতের হিসেব রাখার পদ্ধতি অনেকটাই সহজ করে তুলেছে স্মার্ট মিটার। প্রিপেইড স্মার্ট মিটারগুলি কাজ করে অনেকটা মোবাইল রিচার্জের মতো। অর্থাৎ, আগে টাকা দিয়ে তারপরে বিদ্যুতের সুবিধা পাওয়া যায়। টাকা ফুরিয়ে গেলে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগ। স্মার্ট মিটার নিলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা আপনার বাড়িতে লাগিয়ে দিয়ে যাবে মিটার ও  সাথে একটি ডিসপ্লে ইউনিট। এই ডিসপ্লেতেই কতটা বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে তার বিবরণ থাকে। ফলে সহজেই তার উপর নজর রাখতে পারবেন ব্যবহারকারী। 

মিটারের ভেতরে থাকা সেন্সর ভোল্টেজ, পাওয়ার ফ্যাক্টর ও কারেন্টের পরিমাপ করে চলে প্রতিনিয়ত। আর এইসব তথ্য ওয়্যার্ড ও ওয়ারলেস পদ্ধতিতে গ্রিড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে গিয়ে পৌঁছায়। বিদ্যুৎ সংস্থার সার্ভার তথ্যগুলি বিশ্লেষণ করে ও গ্রাহকদের বিল তৈরি করে। এছাড়া ব্যবহারের একটি রিপোর্টও পাঠানো হয়।  

স্মার্ট মিটারের একটা ইতিবাচক দিক হল প্রতি মুহূর্তে কত বিল আসছে তা দেখা যায় বলে, কোন যন্ত্রে কতটা বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে তা সহজেই নির্ধারণ করা যায়। সাধারণ মিটারের ক্ষেত্রে বাড়ি বন্ধ রেখে কোথাও গেলে মিটার রিডার সেই সময় আসলে, তিনি মিটার রিডিং নিতে পারেন না। মিটার রিডিং না পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা আগে অনুমানের ভিত্তিতে বিল পাঠিয়ে থাকা, তবে স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে সে সমস্যা নেই, যতটা খরচ করবেন ততটাই বিল দিতে হবে। বিদ্যুৎ সংস্থার কর্মীদেরও স্মার্ট মিটারের রিডিং নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। 

কখনো লাইনে গন্ডগোল হলে বা লোডশেডিং হলে স্মার্ট মিটার নিজে থেকেই সংস্থায় সতর্ক বার্তা পাঠিয়ে দেয়, ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে সংস্থা। কত বিল উঠছে দেখতে পাওয়া যায় বলে গ্রাহকরা তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। 

স্মার্ট মিটারের অনেকগুলি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কিছু অসুবিধাকে একেবারেই অস্বীকার করা যায় না। বহু স্মার্ট মিটার ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন যে, এই মিটার লাগানোর পরে এক ধাক্কায় বিদ্যুতের খরচ অনেকটা বেড়ে গেছে। কারণ এনার্জি চার্জের সঙ্গে, মিটারের ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ এবং ভ্যাটও দিতে হয়। 

অন্যদিকে, স্মার্ট মিটারের তথ্য কোনো হ্যাকারের হাতে পড়লে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়ার প্রবল সম্ভবনা থেকে যায়। এক বিদেশি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কিছু স্মার্ট মিটার বিদ্যুতের আসল খরচের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি ও ভুল বিল দেখায়। স্মার্ট মিটার একবার খারাপ হয়ে গেলে তা সারানো যায় না, ফলে গ্রাহককে টাকা খসিয়ে আবার নতুন মিটার কিনতে হয়। 

আরও পড়ুনঃ শনিতেও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গে, আগামীকালের আবহাওয়া

স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে নানান আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন এতে গ্রাহকের থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার লাভ বেশি। প্রিপেইড কার্ডে আগে টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে মধ্যবিত্তদের চূড়ান্ত হয়রানি শিকার হতে হচ্ছে। 

Leave a Comment