স্মার্ট মিটার লাগালে বেশি আসবে বিদ্যুতের বিল? মিলল উত্তর

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে এবার সম্পূর্ণরূপে প্রি-পেইড স্মার্ট মিটার (Pre-Paid Smart Meters) চালু করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মানে এবার মোবাইল রিচার্জের মতো আগে থেকে টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ পাবেন ব্যবহারকারীরা। রাজ্যে এসে একথাই জানিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর (Manohar Lal Khattar)। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে এরাজ্যে ২ কোটি স্মার্ট মিটার লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। 

এবার বাংলার বাড়ি-বাড়ি বসবে প্রি-পেইড স্মার্ট মিটার 

ইতিমধ্যেই ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেক্ট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (WBSEDCL) কিছু বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও গার্হস্থ্য গ্রাহকদের জন্য প্রায় ৭ লক্ষের কাছাকাছি প্রি-পেইড স্মাট মিটার লাগিয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে নতুন স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হবে। মিটার পিছু ৯০০ টাকা করে অনুদান দেবে কেন্দ্র সরকার। আর ব্যবহারকারীকে ৯১ মাস অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে খরচ করতে হবে। 

স্মার্ট মিটারের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি কী কী?

স্মার্ট মিটারগুলি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে রিয়েল টাইম অর্থাৎ প্রতিমুহূর্তে বিদ্যুৎ খরচের রিডিং প্রদর্শন করতে পারে। এই ধরনের মিটার আরও নির্ভুলভাবে বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ নির্ধারণ করতে ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দিতে সক্ষম। বর্তমানে মূলত পোস্টপেইড পদ্ধতি ব্যবহার করলেও, কিছু স্মার্ট মিটার প্রিপেইডে চলে। 

এই স্মার্ট মিটারগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তাৎক্ষণিক তথ্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ও গ্রাহকদের সাথে ভাগ করে নেয়। মিটারের সাথে আসা ডিসপ্লে বা কোনও নির্দিষ্ট অ্যাপে এই সমস্ত ডেটা সরাসরি দেখা যায়। মিটারগুলি ওয়্যার্ড বা ওয়্যারলেস সিস্টেমের মাধ্যমে পাওয়ার গ্রিডগুলির সাথে যুক্ত থাকে। ফলে দূর থেকেও মিটার রিডিং নেওয়া সম্ভব হয় এবং কোনও ধরনের বৈদ্যুতিক গোলযোগ হলে সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট মিটারগুলি সরবরাহকারী সংস্থাকে সতর্কবার্তা পাঠায়। 

সাধারণ মিটারের ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় অনুমানের ভিত্তিতে ভুল বিল পাঠানো হয়েছে। বিশেষত যদি কোনও গ্রাহক মিটার রিডিং-এর সময় বাড়িতে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে মিটার রিডার রিডিং না নিয়েই চলে যেতে বাধ্য হন। তখনই অনুমানের ভিত্তিতে বিল পাঠানো হয়, যা অনেক সময়ই ত্রুটিপূর্ণ হয়। স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে সে সমস্যা নেই। সবটাই স্বয়ংক্রিয় ভাবে হয়।

তবে সুবিধার পাশাপাশি এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন, স্মার্ট মিটার লাগনোর পর বহু গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে তাদের বিদ্যুতের খরচ একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। আসলে স্মার্ট মিটারে এনার্জি চার্জের পাশাপাশি দিতে হয় মিটারের ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ এবং ভ্যাট। অতিরিক্ত খরচের দরুন বিল বাড়ে চড়চড়িয়ে। 

আরও পড়ুনঃ রামেশ্বর থেকে সমুদ্রের পাড় ধরে দিঘা! ৮,৩০০ কোটি টাকার মেগা প্রোজেক্ট সরকারের

এছাড়া, প্রি-পেইড স্মার্টমিটারের একটা সমস্যা হল আগে বিদ্যুতের দাম দিলে তবেই সেই পরিমাণ ইউনিট খরচ করা যায়। নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ ফুরোলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে আলো-পাখা। এই ব্যবস্থার সাথে তাল মেলাতে মাসের শেষে মধ্যবিত্তকে হয়রানি পোয়াতে হচ্ছে। এমনকি, অনেকে মনে করছেন স্মার্ট মিটার সাধারণ মিটারের তুলনায় দ্রুত চলে, ফলে বিদ্যুতের ইউনিট খরচ বেশি হয়। 

স্মার্ট মিটারে বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে?

যদিও, বিদ্যুৎ দপ্তর এই দাবিগুলি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, সাধারণ মিটারের মতোই স্মার্ট মিটারে বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং ডিসপ্লের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে খরচের পরিমাণ প্রদর্শন করা হয়। এরাজ্যে স্মার্ট মিটার সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হলে কি বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে? তাই নিয়েই ধন্দ সাধারণ মানুষের মনে। 

Leave a Comment