সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের মহিলারা পেতে শুরু করেছেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের ৩০০০ টাকা। সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাগুলি যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করার জন্যই বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আজ অর্থাৎ সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় জনকল্যাণ শিবিরের উদ্বোধন করেছেন তিনি। আর সেখানে সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থিত হয়ে একাধিক ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এদিন আগের সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের অনিয়ম এবং দুর্নীতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “৭৯ লক্ষ মানুষকে ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়েছে। এমনকি সরকারি প্রকল্প থেকে যদি কোনও নাগরিক বঞ্চিত হন, তাহলে টোল ফ্রি নাম্বার দেওয়া হয়েছে। সেখানে সরাসরি যোগাযোগ করে অভিযোগ জানানো যাবে। ইতিমধ্যেই আমরা কেন্দ্র সরকারের সাহায্য পেয়েছি। কেন্দ্রের দ্বারা বাংলার রাস্তাঘাট থেকে জলসহ সমস্ত পরিষেবা উন্নত হবে।”
শিশুদের টিকাকরণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “যে সমস্ত আবেদনকারী সন্তানদের টিকাকরণ করাননি, ভাবেন টিকাকরণ করালে জন্মহার কমে যাবে, তাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কেন প্রয়োজন?” অর্থাৎ তাঁর কথা থেকে স্পষ্ট যে যারা শিশুদেরকে টিকাকরণ করাতে পারেননি, তারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সহ অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। শিবিরে তিনি বলেন, “রাজ্যের জনকল্যাণ শিবির থেকে এবার মোট ৫৪টি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। বিগত সরকার বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে নয়ছয় করেছে। তবে আমরা চাই না যে প্রকৃত উপভোক্তা বঞ্চিত হোক। দরকার হলে সরকারি কর্মচারীরা আপনাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সাহায্য করবেন। আমাদের সরকার সবে পাঁচ সপ্তাহ হয়েছে। তার মধ্যে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলেছি।”
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এসেই আরজি কর কাণ্ডে অ্যাকশন শুভেন্দু সরকারের, নবান্নে জমা পড়ল রিপোর্ট
তিনি আরও জানান, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে শিক্ষা এবং পুর নিয়োগে এখনও পর্যন্ত সঠিক বিচার পায়নি সাধারণ মানুষ। তাঁর দাবি, “এবার থেকে সরকারি চাকরির পরীক্ষা যত নম্বরের উত্তর লিখবেন সেই ওএমআর শিট পরীক্ষার্থীরা বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।” অর্থাৎ ওএমআর কারচুপি রক্ষা বন্ধ করার জন্যই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। এমনকি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে লিখিত মূল্যায়নের উপরেও জোর দিয়ে মৌখিকের নম্বর কমানোর কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।