লোডশেডিং-র দিন শেষ! পরমাণু শক্তিতে বিশ্বকে চমক ভারতের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার দেশের পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের (Nuclear power in India) ক্ষেত্রে মিলল বিরাট সাফল্য। তামিলনাড়ুর কুদানকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের (Kudankulam Nuclear Power Plant) ইউনিট ৫ এর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল সফলভাবে স্থাপন করেছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড। আর এই অগ্রগতি ভারতের পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থাকে যে আরও শক্তিশালী করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পারমাণবিক শক্তি খাতে বিরাট অগ্রগতি

এনপিসিআইএল সূত্রে খবর, অ্যাটামিক এনার্জি রেগুলেটারি বোর্ডের অনুমোদনের পর এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাজ শুরু হয়। রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেলকে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূলকেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। কারণ, এখানেই থাকে রিঅ্যাক্টরের মূল অংশ। আর যেখানে পারমাণবিক বিভাজনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়। আনুমানিক ৩২০ টন ওজনের এই বিশাল যন্ত্রাংশটি অত্যাধুনিক ট্রেনের হেভি-লিফট ক্রেনের রিঅ্যাক্টর ভবনের ভিতরে স্থাপন করা হয়েছে। এনপিসিআইএল জানিয়েছে যে, এই পুরো কাজটি অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনা, উন্নত প্রযুক্তি আর কঠোর নিরাপত্তা বিধি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।

এমনকি সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্থাপনার মাধ্যমে ইউনিট ৫-এ নিউক্লিয়ার টিম সাপ্লাই সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বসানোর কাজ অনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। যার ফলে প্রকল্পের কাজ এখন আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কুদানকুলম প্রকল্প ভারতের অন্যতম বৃহৎ একটি পরমাণু শক্তি উৎপাদন প্রকল্প। বর্তমানে ইউনিট ১ এবং ইউনিট ২ পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। আর ইতিমধ্যেই এই দুটি ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়েছে। যার ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়েছে।

এনপিসিআইএল আরও জানিয়েছে, ইউনিট ৩, ৪, ৫ এবং ৬ এর কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। আর সবকটি ইউনিট চালু হয়ে গেলে কুদানকুলম প্রকল্পের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৬০০০ মেগাওয়াটে দাঁড়াবে। তখন এটি দেশের সবথেকে বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিণত হবে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা Atomstroyexport। আর দুই দেশের যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারত–রাশিয়া পারমাণবিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে কুদানকুলম প্রকল্পের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: আধার কার্ডের ব্যবহার নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

এমনকি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও আগে এই প্রকল্পকে ভারত–রাশিয়া সম্পর্কের অন্যতম সফল উদাহরণ বলেই উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর কথায়, “রাশিয়া–ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্র অন্যতম প্রধান সহযোগী আর কুদানকুলম প্রকল্প সেই সম্পর্কের আরও উজ্জ্বল নিদর্শন।” এমনকি ভারত সরকার আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যেই দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে কুদানকুলম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

Leave a Comment