সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অফলাইন এবং অনলাইন দু’ভাবেই চলছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) ফর্ম ফিলাপ। এমনকি রাজ্যজুড়ে বসেছে তিন দিনের জনকল্যাণ শিবির, যেখানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে শুরু করে অন্যান্য যাবতীয় প্রকল্পের ফর্ম পূরণ করা যাচ্ছে। তবে ফর্ম ফিলাপ করার পরেই কি মিলবে অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা? এ নিয়ে এবার বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি জনকল্যাণ শিবির নিয়েও বলেছেন একাধিক কথা।
বৈঠকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবান্নে জেলা শাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে কেন্দ্র এবং রাজ্যের প্রকল্প সম্পর্কে শিবিরে আসা প্রত্যেকটি মানুষকে বিস্তারিত বোঝানোর নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগারওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষসহ প্রমুখরা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তালিকায় থাকুক কিংবা না থাকুক, জনকল্যাণ শিবিরে সমস্ত ধরনের সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র রাখতে হবে। এমনকি বিধবা ভাতা বা বার্ধক্য ভাতার আবেদন বন্ধ থাকলেও আবেদনপত্র জমা নিতে হবে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন যে, ইতিমধ্যে এই প্রকল্পে ১ কোটি ৩ লক্ষ আবেদন ভেরিফাই হয়েছে। কিন্তু ফর্ম পূরণ করার পরই কি ঢুকবে ৩০০০ টাকা? এ নিয়ে রাজ্যের মহিলাদের মনে একাধিক প্রশ্ন জাগছে। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করলে অবশ্যই মিলবে টাকা। কিন্তু আগে যোগ্য উপভোক্তাদের যাচাই করা হবে, যাতে যোগ্যরাই প্রকল্পের সুবিধা পান। সেই কারণে অতিরিক্ত যাচাই করা হচ্ছে। কেন্দ্র এবং রাজ্যের সমস্ত প্রকল্প সম্পর্কে শিবিরে আসা মানুষদেরকে বিস্তারিত বোঝানোরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের শুরুতেই হ্যাটট্রিক মেসির, আর্জেন্টিনার সামনে ধোপে টিকল না আলজেরিয়া
উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে গত ১৫ জুন থেকে আজ অর্থাৎ ১৭ জুন পর্যন্ত বসছে জনকল্যাণ শিবির। রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলায় একাধিক ক্যাম্প বসানো হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে। তবে এই শিবির সম্পর্কে আরও বেশি প্রচারের উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রবীণ নাগরিকদের রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, শিবির শেষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রবীণ নাগরিকদের কাছে আবেদনপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে। তীব্র গরমে যাতে অসুস্থতার সম্মুখীন না হতে হয় সাধারণ মানুষের তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা শাসকদের। ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে মোট ২০৫০টি জনকল্যাণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং গতকাল পর্যন্ত শিবিরগুলিতে ২৪ লক্ষ মানুষ সহায়তা পেয়েছেন।