সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আপাতত পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Ritabrata Banerjee)। মমতার তরফে করা মামলায় কোনও রকম অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। অন্তবর্তী নির্দেশ জারি করলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। এমনকি তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেই এই রায় ঘোষণা করা হল আদালতের তরফ থেকে। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতেই পড়ল শিলমোহর। ফলত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আরও ধাক্কা খেলেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
প্রসঙ্গত, এবার তৃণমূলের ভরাডুবির পর প্রথমে বিরোধী দলনেতার আসনে বসানো হয়েছিল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু সই জালিয়াতি কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরই তৃণমূলের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে একেবারে ভেঙে খানখান হয়ে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিল তিল করে গড়ে তোলা দল। তাদের দাবি অনুযায়ী, মোট ৫৮ জন বিধায়ক সই করেন নতুন তৃণমূলে। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে অন্তত ৫২ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। সেই কারণে নতুন তৃণমূল হয়ে ওঠে রাজ্যের বিরোধী দল, এবং বিরোধী দলনেতার পদে বসানো হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এমনকি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু সেই চিঠিকে স্বীকৃতি দেন।
আরও পড়ুন: মমতার নিরাপত্তা নিয়ে মিথ্যা বলছে তৃণমূল! পাল্টা বিবৃতি নবান্নর
তবে এরপর মামলা গড়ায় আদালতের দরজায়। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে থেকেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। আইনজীবী হিসেবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মমতার পক্ষ থেকে সওয়াল করেন। কিন্তু আখেরে লাভ কিছুতেই হল না। এদিন হাইকোর্টের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয় এবং বিচারপতি তাতে কোনও রকম হস্তক্ষেপে করেনি। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্তেই শিলমোহর দিল আদালত। অর্থাৎ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে বহাল থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।