সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ভুয়ো বা অকার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নিল রাজ্যের মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের জেরে রাজ্যের মোট ৪৬৫টি বেসরকারি স্ব-অর্থায়িত স্কুলের (Private School) স্বীকৃতি বাতিল করা হল। পর্ষদের দাবি, টানা দুই শিক্ষাবর্ষ ধরে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিতভাবে পড়াশোনা চালু ছিল না। এমনকি স্কুলগুলির কোনও ছাত্র-ছাত্রী বোর্ড পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করেনি। যার ফলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হল।
কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত?
পর্ষদ সূত্রে খবর, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, বহু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এমনকি স্কুলে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং বোর্ড পরীক্ষায় কোনও পরীক্ষার্থী না পাঠানো গুরুতর অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরপরেই স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় পর্ষদ তরফ থেকে।
পরিসংখ্যান বলছে, বিজেপি শাসিত এই রাজ্য অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্তের আওতায় এসেছে। জানা গিয়েছে, প্রয়াগরাজ অঞ্চলে স্বীকৃতি হারিয়েছে প্রায় ১৫০ স্কুল, বারানসিতে স্বীকৃতি হারিয়েছে ১৪২টি, মিরাটে ১০২টি, গোরখপুরে ৩৭টি এবং বেয়ারেলিতে ৩৪টি। সব মিলিয়ে রাজ্যের একাধিক জেলায় এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে। এমনকি স্বীকৃতি বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ৩০৬টি হাইস্কুল ও ১৫৯টি ছিল ইন্টারমিডিয়েট কলেজ। আর হাইস্কুলগুলির মধ্যে ৫৩টি শুধুমাত্র ছাত্রীদের জন্যই পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ছিল। বাকি অধিকাংশই কোয়েট স্কুল ছিল। একইভাবে ইন্টারমিডিয়েট কলেজগুলির মধ্যেও কো-এডুকেশন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
আরও পড়ুন: মহিলা বা পুরুষ, পারেননি বিশ্বের কেউই! সেই রেকর্ড গড়ে দেখালেন স্মৃতি মান্ধানা
এ বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার অবস্থা স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এমনকি পর্ষদ জানিয়েছে, শুধুমাত্র কাগজে-কলমে অস্তিত্ব থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতির আওতায় রাখার কোনও যুক্তির প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং শিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য সক্রিয় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলিকেই স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষা আইন ১৯২১ এর আওতায় পর্ষদের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী। এমনকি সেখানে উল্লেখ রয়েছে, কোনও নব-স্বীকৃত হাইস্কুল কিংবা ইন্টারমিডিয়েট প্রতিষ্ঠান যদি টানা দুই বছর ক্লাস পরিচালনা না করে, অথবা বোর্ড পরীক্ষায় কোনও ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ না করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।