বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধ শেষ। এবার বিশ্ববাসীর নজরে তাইওয়ান (China-Taiwan Problem)। কারণ, সময় যত গড়াচ্ছে দিন দিন এই দেশটির চারপাশে নিজের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে চিন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, একটু একটু করে তাইওয়ানকে পুরো ঘিরে ফেলেছে ড্রাগন। বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে, এই মুহূর্তে অন্তত 6টি চিনা জাহাজ তাইওয়ানকে ঘিরে রেখেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে চাইছে না চিন, বরং বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ড্রাগন।
তাইওয়ান দখল করবে চিন?
2020 সাল থেকে তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা করছে চিন। সে বছর প্রথমবারের মতো তাইওয়ান প্রণালীতে একটি জাহাজ মোতায়েন করেছিল চিন। পরবর্তীতে সেটিই তাইওয়ানের আশেপাশে টহল দিতে থাকে। এরপর সেখান থেকে যুদ্ধ জাহাজের সংখ্যা বেড়ে তিনটিতে দাঁড়ায়। পরে 2022 সালে তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে নিজেদের চতুর্থ জাহাজ মোতায়ন করে ড্রাগন। এই ঘটনার দু’বছর পর 2024 সালে তাইওয়ানের কাছে নিজেদের পঞ্চম এবং ষষ্ঠ জাহাজ মোতায়েন করে শি জিনপিং এর দেশ।
বলাই বাহুল্য, গত মে মাস নাগাদ তাইওয়ানের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম উভয় ক্ষেত্রেই গাইডেড মিসাইল সহ ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করে চায়না। দিনের পর দিন তাইওয়ানের চারপাশে নিজেদের উপস্থিতি মজবুত করতে সব রকম চেষ্টা চিন। এবার ইরান যুদ্ধে সমাপ্তি ঘোষনা হতেই নতুন করে তাইওয়ানের চারপাশে আরও কিছু জাহাজ মোতায়েন করতে পারে ড্রাগনের দেশে।
অবশ্যই পড়ুন: আফগানিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করলেই রেকর্ড, ইতিহাস সৃষ্টির পথে টিম ইন্ডিয়া
এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ মহলের একটা বড় অংশের বক্তব্য, চিন দিন দিন নিজেদের জাহাজের সংখ্যা বাড়িয়ে তাইওয়ানকে একেবারে ঘিরে ফেলেছে। চিনের উদ্দেশ্য নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন নয় বরং তাইওয়ানের সাথে যুদ্ধে জড়ানো। তাতে ওই দেশটিকে পরাস্ত করে সেই অঞ্চলের দখল নিতে চাইছে জিনপিং সরকার। তাঁদের এও দাবি, চিন তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়ে সেখানকার সমুদ্রতল এবং সামুদ্রিক ভূখণ্ডের মানচিত্র তৈরি করছে। শুধু তাই নয়, চিন তাইওয়ানের গোয়েন্দা তথ্যও হাতাতে চাইছে! এছাড়াও তাইওয়ানের সামরিক ঘাঁটি, সাবমেরিনের গোপন আস্তানা সহ অন্যান্য জায়গাগুলিতে নজর রাখছে চিন!