একজন কিডনি ও অন্যজন লিভার, অঙ্গদান করে বাবার প্রান বাঁচালেন দুই বোন

অনন্যা সরকার, গাজিয়াবাদ: বাবার প্রাণ বাঁচানোর জন্য উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের (Ghaziabad) দুই মেয়ের আত্মত্যাগ দেশবাসীর হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। তারা এমনভাবে তাদের বাবার প্রাণ বাঁচিয়েছেন, যা খুব কম মানুষই পারে। তাদের বাবা জয়ন্ত ত্যাগীর দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছিল এবং লিভারও ক্ষতিগ্রস্ত হয় যাওয়ায় তার বাঁচার আশা ছিল না বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে কিডনি (Kidney Transplant) ও লিভার প্রতিস্থাপন (Liver Transplant) ছাড়া আর কোনও উপায় দেখতে পাননি ডাক্তাররা। বাবার জীবন বাঁচাতে নির্দ্বিধায় এক মেয়ে নিজের কিডনি এবং অন্য মেয়ে নিজের লিভার দান করার সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনা বাবার প্রতি সন্তানের অটুট ভালোবাসার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। 

বাবাকে অঙ্গদান করলেন দুই মেয়ে

গাজিয়াবাদের মোর্তা গ্রামের বাসিন্দা অমিত রঞ্জন ত্যাগী জানান যে, তাঁর ৪৫ বছর বয়সী খুড়তুতো ভাই জয়ন্ত ত্যাগী গুরুতর অসুখে ভুগছিলেন। তিনি গত ১১ মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে পেটে ব্যথা থাকার পর ডাক্তার পরীক্ষা করালে তার লিভারে সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা পরে কিডনিতে ছড়িয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি হলে কিডনি ও লিভার – দুই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গই বিকল হয়ে যায়।

জয়ন্ত ত্যাগী কৃষিকাজের পাশপাশি চালাঘর ভাড়া দেওয়া এবং একটি ম্যারেজ হোম চালাতেন। তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী মিনু ত্যাগী, ২২ বছর ও ১৯ বছরের দুই মেয়ে ঋষিকা ত্যাগী ও খুশি ত্যাগী এবং ৮ বছর বয়সী ছেলে কৃষ্ণ। ঋষিকা বি.টেক শেষ করেছেন, আর খুশি বি.টেক-এর প্রথম বর্ষের ছাত্রী। এই কঠিন সময়ে মেয়েরা তাদের বাবার প্রতি ভালোবাসা ও নিষ্ঠার এক দৃষ্টান্ত গড়ে তুলছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তিন মাসের মধ্যেই বড় মেয়ে ঋষিকার বিয়ের কথা ছিল, কিন্তু তিনি নির্দ্ধিধায় তার বাবার প্রাণ রক্ষা করতে কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে, তার বোন খুশি ত্যাগীও বাবার চিকিৎসার জন্য নিজের লিভার দান করেছেন। এমনকি, জয়ন্ত ত্যাগীর স্ত্রীও প্রয়োজনে তার অঙ্গ দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। 

আরও পড়ুনঃ ডিজেল নিয়ে আর চিন্তা নয়! মৎস্যজীবীদের জন্য এবার বড় ঘোষণা

অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার জন্য সিএমও (CMO) অফিস থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়। বর্তমানে, জয়ন্ত ত্যাগী ফোর্টিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত সোমবার তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জয়ন্ত শীঘ্রই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন বলে আশা করে বসে আছে তার পরিবার। গাজিয়াবাদের এই ঘটনা বাবা ও মেয়ের অটুট ভালোবাসা, ত্যাগ এবং পারিবারিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment