সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকাল প্রথম বাজেট পেশ করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার (Government of West Bengal)। উক্ত বাজেটে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) বাবদ চলতি অর্থবছরের জন্য মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। সেই হিসাব ধরলে দেখা যাচ্ছে ১ কোটির কিছু বেশি মহিলা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে সুবিধা পাবেন। অথচ লক্ষীর ভাণ্ডারে সেই উপভোক্তার সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লক্ষের বেশি। তাহলে ১ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তা কোথায় গেল? জানালেন অর্থমন্ত্রী।
কেন উপভোক্তার সংখ্যা কমল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে?
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। এমনকি যারা এখনও পর্যন্ত ভাতা পাননি কিন্তু আবেদন করেছেন, তাদের জুলাই মাসের ১ তারিখেই টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আনুমানিক ১ কোটির বেশি মহিলার তথ্য যাচাই করে পোর্টালে আপলোড করা সম্ভব হয়েছে বলে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর। আর তাদের প্রত্যেকেরই ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে জুলাই মাসে। কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তুলনায় এত উপভক্ত সংখ্যা কম কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হলে সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, “কিছু মানুষ তো অবশ্যই বাদ যাবে। সর্বজনীন ব্যবস্থা থেকে আর্থিক সামর্থ্য যাচাই ব্যবস্থায় ফিরে এসেছি আমরা। যারা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে পকেট মানি হিসেবে নিচ্ছিলেন তারা এখন হয়তো বাদ চলে যাচ্ছেন। আমার মনে হয় এতে সমস্যা হবে। তবে ঠিক মতো পরিচালনা করাই বড় চ্যালেঞ্জ।” উল্লেখ্য, রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আগেই জানিয়েছিলেন যে, যারা এসআইআরে বাদ যাবেন বা বৈধ ভোটার নন তারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন না। পাশাপাশি যারা ইনকাম ট্যাক্স দেন তারাও পাবেন না।
আরও পড়ুন: কলকাতার স্কুলে মিড-ডে মিল রান্না করবে ইসকন, পাতে পড়বে কি ডিম? মিলল জবাব
এদিকে প্রথমে বলা হয়েছিল যে সমস্ত উপভোক্তারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান তাদের প্রত্যেককেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা দেওয়া হবে, এবং অটোমেটিক ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে। তার জন্য কোনও রকম আবেদন করতে হবে না। কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দুর্নীতির পরিসংখ্যান থেকে শিক্ষা নিয়েই রাজ্য সরকার একটি ১২ পাতার আবেদন ফর্ম প্রকাশ করে, এবং সেখানে উপভোক্তা থেকে শুরু করে পরিবারের সমস্ত সদস্যদের তথ্য চাওয়া হয়। পাশাপাশি অনলাইনেও চলছে আবেদন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাতে শুধুমাত্র যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছয় সেদিকেই মূল নজর রাজ্য সরকারের। সেই কারণেই এবার ঝাড়াই-বাছাই করে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে।