সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) থেকে আসল তৃণমূলের তকমা ছিনিয়ে নিতে মরিয়া ঋতব্রতপন্থীদের নতুন তৃণমূল। গত সোমবারই নতুন জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি করে ফেলেছে ঋতব্রতর তৃণমূল। কিন্তু সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও জায়গা হয়নি। এবার সেই দল দখলের যাবতীয় কারসাজি ভেস্তে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি তিনি নিজেই সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি করলেন, যেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে নিজের নাম এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাম।
কমিশনের দ্বারস্থ মমতা
এদিন নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি যে দলের সদস্যদের তথ্য পাঠিয়েছেন সেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে নিজের নামে রেখেছেন। পাশাপাশি উপ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন সুব্রত বক্সিকে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর নাম রয়েছে। জয়েন সেক্রেটারি হিসেবে রয়েছে ডেরেক ও ব্রায়েন এবং দোলা সেনের নাম। পাশাপাশি কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রাখা হয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তীকে। কার্যত সংগঠনের সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য এবার নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে নিজের দলের তকমা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই ভেঙে খানখান তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে তৈরি হয় নব্য তৃণমূল, যেখানে ৫৮ জন বিধায়ক সমর্থন করে। এবং বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী তারাই রাজ্যের বিরোধী দলের তকমা পায় আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বানানো হয় বিরোধী দলনেতা। অন্যদিকে একঘরে হয়ে যায় কালীঘাট তৃণমূল। সেই দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনারের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ায় কত নম্বর জার্সি পরে খেলবেন বৈভব সূর্যবংশী? খোলসা করল BCCI
গত সোমবার নিউটাউনের এক হোটেলে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের একটি বৈঠক হয়। আর সেখানে অধিবেশনের মাধ্যমেই নতুন জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করা হয়, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও নাম উল্লেখ করা হয় না। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঋতব্রত, সন্দীপন সাহা সহ মোট চারজনের নাম যুক্ত হয়। এছাড়া বিভিন্ন পদে ঋতব্রতপন্থী সব বিধায়করাই জায়গা পান। এমনকি আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে সেই নামগুলো নথিভুক্ত করার আবেদন জান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েই সোমবার মমতার তৈরি সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতির খুঁটিনাটি তথ্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এখন দেখার এ বিষয়ে কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়।