সৌভিক মুখার্জী, পিংলা: রক্ষকের নামেই ভক্ষক। কলেজ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে ওই কনস্টেবলকে। এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, ঘটনাস্থলে পিংলার (Pingla) বিধায়ক স্বাগতা মান্না উপস্থিত হয়ে উচিত শিক্ষা দিয়েছেন পুলিশের পোশাকের আড়ালে থাকা ওই দুষ্কৃতীকে। অভিযুক্ত কনস্টেবলকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ, এবং তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেই খবর সূত্রের।
পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ
সূত্রের খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় এক কলেজ ছাত্রী কম্পিউটার টিউশন থেকে সন্ধ্যেবেলায় বাড়ি ফিরছিল। জানা গিয়েছে ওই ছাত্রী পিংলা কলেজের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া। তবে বাড়ি ফেরার সময়ই রাস্তার মধ্যে তাঁকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বুঝতে পেরে হাতেনাতে ওই পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে। এরপর আতঙ্কিত ওই ছাত্রী তাঁর মাকে ফোন করলে সেই সময় পিংলার বর্তমান বিধায়ক স্বাগতা মান্না থানার ওসিকে জানান, এবং পুলিশকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তৎক্ষণাৎ ওই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ, এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান বিধায়ক স্বাগতা মান্না থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলের নাম বিশ্বজিৎ ভৌমিক। বর্তমানে তিনি দিঘা ট্রফিকে কর্মরত। কিন্তু একজন কনস্টেবল হওয়া সত্বেও কীভাবে একটি মেয়ের সঙ্গে এরকম আচরণ করতে পারলেন তিনি, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয়রা। বিধায়ক স্বাগতা মান্না সরাসরি প্রাক্তন শাসকদলকে নিশানা করেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলের আমলে বিগত ১৫ বছর দুর্নীতির কারণে রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। রক্ষক এখন ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। সরকার পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও এরা এখনও পর্যন্ত পরিবর্তন হতে পারেনি।
আরও পড়ুন: ‘এটা ওর শেষ বক্তব্য’ হুমায়ুনের ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, দায়ের FIR
বিধায়কের আরও সংযোজন, “একজন পুলিশ কনস্টেবল হয়ে কীভাবে এরকম কাজ করতে পারে সে? এরা এখনও পর্যন্ত সেই লালসা ভুলতে পারছে না। এরা পুলিশ নামের কলঙ্ক।” এমনকি বিধায়ক থানার ওসিকে বলেন, “এ যাতে যথাযথ শাস্তি পায় তার ব্যবস্থা করবেন। যতদূর পর্যন্ত যেতে হয় আমি যাব। এর বিরুদ্ধে আমি লড়ব। এ কোথা থেকে ছাড়া পায় সেটা আমি দেখে নেব। এই কনস্টেবল নিজের পোশাককে অপমান করেছে। কীভাবে এর চাকরি থাকে আমি দেখে নেব।” এমনকি স্থানীয় বাসিন্দারাও ওই পুলিশ কনস্টেবরের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।