সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তীব্র দাবদাহের কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকার এবং সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে আবারও মর্নিং স্কুলের (Morning School) সময়সীমা বাড়ানো হল। এমনকি এবার তা বাড়িয়ে একেবারে সরাসরি ১৫ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। এমনই একটি বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, বিকাশভবনের তরফ থেকেই এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, এবং সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপসচিবের স্বাক্ষরও রয়েছে। কিন্তু আদৌ কি বাড়ানো হল মর্নিং স্কুলের মেয়াদ?
পশ্চিমবঙ্গ বাড়ল মর্নিং স্কুলের সময়সীমা?
সম্প্রতি যে নোটিশ ভাইরাল হচ্ছে সেটি বিকাশভবনের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এমনকি সেটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমস্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫-০৬-২০২৬ তারিখের স্মারক নম্বর 743/1(5)-SED- 15099/196/2026 এর ধারাবাহিকতায় কিছু জেলায় বিরাজমান গরম আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, জেলাশাসকের এক্তিয়ারভুক্ত সমস্ত স্কুল কর্তৃপক্ষকে তাদের সুবিধা মতো আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত সকালের শিফটে স্কুল পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কারণ, এই সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা বজায় থাকবে। এমনকি সেই চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপসচিবের সই রয়েছে বলেও দেখা যাচ্ছে।
স্বাভাবিকভাবেই এই বিজ্ঞপ্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে অভিভাবকদের মনে প্রশ্ন জাগছে, সত্যিই কি তাহলে আবার মর্নিং স্কুল বাড়ানো হল? আসলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে জারি করা আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন থেকে আবারও পুনরায় আগের সময়ে স্কুল হবে। অর্থাৎ ২৯ জুন পর্যন্ত মর্নিং স্কুলের সময়সীমা ছিল। আদতে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মর্নিং স্কুলের মেয়াদ বাড়ানোর যে বিজ্ঞপ্তিটির ভাইরাল হয়েছে সেটি আসলে ফেক। হ্যাঁ, বিকাশভবনের তরফ থেকে বা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এরকম কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। আগামীকাল থেকেই ফের আগের মতো স্কুল শুরু হবে রাজ্যে।
আরও পড়ুন: নতুন কোচের পাশাপাশি মোহনবাগানে আসছেন এক ভয়ঙ্কর ফুটবলার!
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিহারের পাটনা জেলায় তীব্র দাবদাহের কথা মাথায় রেখে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল, ২৯ এবং ৩০ জুন অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত ক্লাসের পঠনপাঠন বন্ধ থাকবে। অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ঝুঁকি এড়ানোর জন্যই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে মর্নিং স্কুল কিংবা গরমের ছুটির বিষয়ে কোনও রকম বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।