৯১৫ কোটির চুক্তি, ২ বছর পর ভারত থেকে রেল কোচ আমদানি করছে বাংলাদেশ

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দুঃসময়ে ভরসা প্রতিবেশীই! শেখ হাসিনার পতনের পর আবারও ভারত থেকে রেল কোচ যাচ্ছে ওপার বাংলায় (Bangladesh-India Trade)। দিল্লি এবং ঢাকার কূটনীতি ছন্দে ফিরল। পাশাপাশি প্রায় দুই বছরের বিরতির পর বাংলাদেশীদের পর্যটন ভিসা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। আর তারই মধ্যে নয়াদিল্লি থেকে রেল কোচ রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশে। সূত্রের খবর, আগামী জুলাই মাসে ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

ভারত থেকে রেল কোচ আমদানি বাংলাদেশের

বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, যে ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচ জুলাই মাসে রফতানি করা হবে তার আনুমানিক বাজার মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় ৯১৫ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। তবে হ্যাঁ, ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ রফতানি করা হবে বলেই খবর। যার মধ্যে প্রথম ধাপে যাবে ২০টি কোচ। এমনকি এর আগে বাংলাদেশকে মোট ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ, ৩৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছিল ভারত । তবে হাসিনা জামানার পর থেকেই সেই আমদানি বন্ধ। কিন্তু এবার ফের দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঘুরে দাঁড়াল কোচ আমদানির মধ্য দিয়েই।

উল্লেখ্য, এই কোচ কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক। এ বিষয়ে ভারতীয় রেলের এক কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তির প্রথম রেক আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। বাংলাদেশের কাছে কোচগুলি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আর এই কোচগুলো তৈরি করা হচ্ছে পাঞ্জাবের কাপুরথালার রেল কোচ কারখানায়। সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে কোচ সরবরাহের পাশাপাশি ডিজাইন সাপোর্ট থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ এবং এগুলি চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে ভারত সর্বত্রভাবে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন: ‘মেকআপ ছাড়া ওনার ফেস ভ্যালুটা একবার দেখান না’ রচনাকে বিঁধে লকেটের প্রশংসা অসিতের

না উল্লেখ করলেই নয়, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের রেল কোচ আমদানি বন্ধ রেখেছে ভারত। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই প্রথম বড় সরবরাহ করছে নয়াদিল্লি। এমনকি প্রায় দুই বছর বিরতি কাটিয়ে রবিবার থেকে আবারও ঢাকায় বাংলাদেশীদের জন্য ভারতীয় পর্যটন ভিসার আবেদন শুরু হয়েছে। এমনকি ভারতীয় হাই কমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশীদের মধ্যে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। তবে এই রেল কোচ আমদানির মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলেই মত প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment