অনন্যা সরকার, গুজরাট: সম্প্রতি হিন্দু বিবাহ নিয়ে গুজরাট হাইকোর্টের (Gujarat High Court) একটি রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, আইন (Hindu Marriage Act) অনুযায়ী ‘সপ্তপদী’ (Saptapadi) সহ প্রয়োজনীয় প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠান পালন না করা হলে শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনের (Registration) মাধ্যমে কোনো হিন্দু বিবাহ বৈধ বলে গণ্য হতে পারে না। গত ২৩ জুন বিচারপতি আর.টি. বাছানি এবং বিচারপতি ইলেশ ভোরার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। যুক্তরাজ্য-প্রবাসী এক ব্যক্তির করা আপিলের শুনানির সময় আদালতের একটি পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, ওই ব্যক্তি পারিবারিক আদালতের (Family Court) একটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে একটি বিবাহকে বাতিল ঘোষণা করতে অস্বীকার করা হয়।
কী ছিল মামলার বিষয়বস্তু?
গত বছর নভেম্বর মাসে পারিবারিক আদালতের দেওয়া আদেশ স্থগিত করে হাইকোর্ট বলে যে, সপ্তপদীর মতো অপরিহার্য আচার-অনুষ্ঠান পালন করাই হল হিন্দু বিবাহের মূল ভিত্তি। আদালত এও উল্লেখ করেছেন যে, সপ্তপদী, অর্থাৎ পবিত্র অগ্নির সামনে বর ও কনের সাত পাক ঘোরা বিয়েকে একটি পবিত্র বন্ধন হিসেবে সামাজিকের পাশাপাশি আইনি মর্যাদাও প্রদান করে।
এই রায় ছিল আপিলকারী কৌশল সোনারকে কেন্দ্র করে। তিনি জানিয়েছেন যে, তার বর্তমান বাসস্থান যুক্তরাজ্যে, আর বিবাদী পক্ষ থাকেন আহমেদাবাদে। তিনি আদালতকে জানান, ওই মহিলা যখন তার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে নিজেকে তার আইনসম্মত স্ত্রী হিসেবে দাবি করে বিয়ের একটি সার্টিফিকেট দেন, সেইসময়ই তিনি ওই বিয়ের কথা জানতে পারেন। কৌশল সোনার দাবি করেন যে, তিনি ওই মহিলার সঙ্গে কোনো রকম বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হননি, কোনো হিন্দু আচার-অনুষ্ঠান পালন করেননি এবং স্বামী হিসেবে তার সঙ্গে কখনও থাকেননি। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন যে, বিয়ের নথিপত্রে তার স্বাক্ষর প্রতারণামূলকভাবে কোনরকম সম্মতি ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল।
হাইকোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৌশল সোনারের আবেদন খারিজ করে পারিবারিক আদালত ভুল করেছিল, বিশেষ করে যখন বিবাদী নিজেই আদালতের সামনে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, দুজনের মধ্যে হিন্দু বিবাহের কোনো আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়নি এবং তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি কখনও। হিন্দু বিবাহ আইনের (Hindu Marriage Act) ৭ নম্বর ধারা উল্লেখ করে আদালত জানায়, একটি হিন্দু বিবাহকে সম্পূর্ণ ও বৈধ হতে হলে তা অবশ্যই সপ্তপদীর মতো প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠান মেনে সম্পন্ন হতে হবে। যেহেতু এক্ষেত্রে তেমন কোনো আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়নি, তাই হিন্দু বিবাহের এই মৌলিক ও অপরিহার্য শর্তটিই এখানে মানা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ রথে ট্রেনের ভরসা ছেড়ে সরকারি এসি বাসে শুয়ে শুয়ে যান পুরী, মহিলাদের জন্য ছাড়
এছাড়াও বিচারপতিদের বেঞ্চ আরও উল্লেখ করেছে যে, বিয়ে কেবল গান-বাজনার অনুষ্ঠান, ভোজ-উৎসব বা কোনো বাণিজ্যিক লেনদেন নয়। বরং একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন ও পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুতর ও ভিত্তিস্বরূপ ঘটনা। আদালত যুবক যুবতীদের বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করার এবং ভারতীয় সমাজে এর পবিত্রতা কতটা, তা অনুধাবন করে দেখার অনুরোধ করেছে। এই রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, হিন্দু বিবাহের ক্ষেত্রে কেবল রেজিস্ট্রেশন অপরিহার্য প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠান পালনের বিকল্প নয়।