অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্ষা পড়তেই মাছের বাজারগুলোতে শুরু হয়েছে ইলিশের (Hilsa) খোঁজ। যদিও মরশুমের শুরুতে ইলিশ (Ilish) শিকারে গিয়ে আশানুরূপ মাছ জালে না পড়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে মৎস্যজীবীদের (Fisherman)। গত একমাস ধরে বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তার অধিকাংশই হিমঘরে রাখা গতবছরের মাছ বা মায়ানমার থেকে আসা ইলিশ। তবে বৃষ্টিপাত বাড়ায় হাসি ফুটেছে মৎস্যজীবীদের মুখে। জানা গেছে শীঘ্রই ঝাঁকে ঝাঁকে টাটকা ইলিশে ছেয়ে যাবে কলকাতা ও জেলার বাজারগুলো।
গত মাসেই ইলিশ ধরতে সমুদ্রে পাড়ি দেন মৎস্যজীবীরা
গত ১৫ জুন থেকেই মৎস্যজীবীদের ট্রলারগুলি ইলিশ ধরতে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছে বলে জানান কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজন মাইতি। তিনি বলেন, কমবেশি সব ট্রলারেই মাছ উঠছে। তবে পরিমাণে কম। তাই মাছ বেচে সমুদ্রে যাতায়াত ও জ্বালানির খরচ উঠলেও মৎস্যজীবীদের খুব একটা লাভ হচ্ছে না। তবে তিনি আশা রাখেন, আগামী সপ্তাহ দুয়েক পর থেকেই ট্রলারগুলিতে বেশি পরিমাণে মাছ ধরা পড়বে। ইলিশ ধরার জন্য মৎস্যজীবীদের কাছে দুর্গাপুজো অবধি সময় থাকে, এর মধ্যেই মুনাফা কামিয়ে নিতে হয়।
কত হবে দাম?
এছাড়াও বিজন মাইতি জানিয়েছেন, বর্তমানে ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ মাছই জালে ধরা পড়ছে। ডায়মন্ড হারবার ও কাকদ্বীপের পাইকারি বাজারে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের মাছগুলির দর চলছে প্রতি কেজিতে ৭০০- ৭৫০ টাকা। আর ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মাছগুলি কিনতে প্রতি কেজিতে প্রায় ১,০০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও বেশি পরিমাণে মাছ বাজারে এলে দাম অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানাচ্ছেন, এক্ষেত্রে পাইকারি বাজারে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশগুলি কেজি প্রতি ৫০০-৬০০ টাকায় পাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ইস্টবেঙ্গলের স্বপ্ন ভেঙে হবে চুরমার! ফের মোহনবাগানেই হাবাস? এল বড় খবর
এ তো গেল পাইকারি বাজারের দাম। কিন্তু খুচরা বাজারে সাধারণ মানুষ কত টাকায় কিনছেন ইলিশ? উত্তর পাওয়া গেছে মানিকতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বাবলু দাসের থেকে। তিনি জানাচ্ছেন, বর্তমানে ১ কেজি বা ১ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দর চলছে প্রতি কেজিতে ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ টাকা। আর এক কেজি আড়াইশো গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ১৬০০ টাকা কেজি। এছাড়া ৭০০-৮০০ গ্রাম ইলিশের দাম প্রতি কেজিতে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা চলছে। তবে বাবলু দাস সাফ জানান, এখন যে মাছগুলো বাজারে বিক্রি হচ্ছে সেগুলো সবই স্টোরেজের বরফে থাকা মাছ। সমুদ্র উপকূলে যে ইলিশ ধরা হচ্ছে তার কোনটাই বাজারে এখনও চোখে পড়ছে না। তবে দিন পনেরোর মধ্যে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে আশা রাখছেন তিনি।