প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) একের পর এক কেচ্ছা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসছে। গত বুধবার, বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তথা রাজারহাট গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতার হয়েছিলেন। এবার তাঁর গ্রেফতারির পরেই গর্জে উঠলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সহ গোটা প্রশাসন ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন এক দীর্ঘ পোস্ট।
চাঞ্চল্যকর অভিযোগ অভিষেকের
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি চাঞ্চল্যকর পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি একপ্রকার প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে, গত দু’সপ্তাহে অন্তত ২৫ জনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, যাঁরা তাঁর বা তাঁর দফতরের সঙ্গে যুক্ত। যথাযথ নোটিস ছাড়াই যখন-তখন তলব করা হচ্ছে। এমনকি কাউকে কাউকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের নাম করে রাজ্য পুলিশের STF কিংবা CID এ ভাবেই আইনি সুরক্ষার মৌলিক নিয়মগুলি লঙ্ঘন করছে। এমনকি এই দাবি করা হচ্ছে যে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড করার জন্যও চাপও দেওয়া হচ্ছে অভিষেক-ঘনিষ্ঠদের।
শুভেন্দু সরকারকে কটাক্ষ অভিষেকের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে বয়ান দেওয়ার জন্য ওঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে, চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এটা চরম পর্যায়ের রাজনৈতিক ভয়-ভীতি প্রদর্শন। যে সরকারের খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ আছে যে তিনি ক্যামেরার সামনেই ঘুষ নিচ্ছেন এবং যাঁর বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের একাধিক মামলা ঝুলে আছে, সেই সরকারই এখন আমায় টার্গেট করতে সরকারি এজেন্সিকে ব্যবহার করছে। যা করতে পারেন, করে নিন। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাথানত করব না আমি।”
আরও পড়ুন: হুগলিতে নতুন কারখানা! তৈরি হবে রেলের বন্দে ভারত থেকে মেট্রোর কোচ, কোথায়?
বিগত কয়েকদিন ধরে, রাজ্যের একাধিক দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করে চলেছে CID, ED-র মতো সংস্থা। কিছুদিন আগেই শালবনি থানার পুলিশ অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খুঁজতে গভীর রাতে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল। তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছিল। যা নিয়ে মিডিয়ার সামনে প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম কটাক্ষ করেছিলেন অভিষেক। এছাড়াও তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগে গত কয়েক দিনে তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর বা প্রাক্তন নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। এমতাবস্থায় অভিষেকের এই পোস্ট রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।